দালালের মাধ্যমে গিয়েছিলেন সৌদিতে, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর লাশ ফেরানো নিয়ে সংশয়
সাড়ে তিন বছর আগে ধারদেনা করে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আজগর ব্যাপারী (৩৮)। ভিসা জটিলতায় এক বছর ধরে অবৈধভাবে ওয়েল্ডিংমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। গত সপ্তাহে এক দুর্ঘটনায় ছাদ থেকে পড়ে তিনি মারা যান। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ও অর্থসংকটে আজগরের লাশ দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আজগর ব্যাপারীর বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার রাধানগর এলাকায়। বৈধ কাগজ ছাড়া সৌদিতে দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় পরিবারে মাতম নেমে আসে। স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে শোকে স্তব্ধ স্ত্রী শিরিনা বেগম। আজগরের মা-ও একরকম বাক্রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পরিবারের কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে পরিবারটি। এখন লাশ ফিরিয়ে আনা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ রিয়াদের হারা শহরের একটি ভবনে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান আজগর। স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাঁকে উদ্ধার করে রিয়াদের আজিজ আবদুল্লাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলের মতো বিলাপ করছেন মমতাজ বেগম। প্রতিবেশীরা আজগরের মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষাও হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁরা বলছেন, পরিবারটির কোনো সহায়–সম্বল নেই। ধারদেনা করে বিদেশে গেলেও ঋণের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় বাড়িতে আসতে পারছিলেন না। এর মধ্যে তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে অন্ধকার নেমে এসেছে। লাশ ফিরিয়ে আনার সামর্থ্যও তাঁদের নেই।
নিহত আজগরের বড় ভাবি রোকসানা আক্তার বলেন, ‘সৌদি আরবে কাজ না থাকায় বাড়িতে টাকাপয়সা দিতে পারেনি। দুবার আকামার জন্য টাকা জমা দিয়েও পায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছি, লাশ আনতে চার লাখ টাকা লাগবে। এ টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই।’
দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশের দূতাবাস আছে। সেখানে মৃত ব্যক্তির পক্ষ হয়ে যোগাযোগ করলে সরকারি সহায়তায় লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।