সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর বিভাগীয় গণসমাবেশ সফল করতে কামারখন্দে দলীয় কার্যালয়ে আজ আলোচনা সভা করি আমরা। সেখানে কেন্দ্রীয় নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদসহ অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে আমরা রেলওয়ে স্টেশনে এলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁরা রুমানা মাহমুদের গাড়ি ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। আমরা প্রতিরোধ করতে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালায়। এতে রুমানা মাহমুদ, ১০ নেতা-কর্মীসহ আমি আহত হয়েছি।’

কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয়। আমাদের ১৪-১৫ নেতা-কর্মী জামতৈল বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বিএনপির মধ্যে দুটি পক্ষ রয়েছে। তাঁদের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের ছয়-সাতজন নেতা-কর্মীর ওপর তাঁরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করেন।’

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী প্রধান বলেন, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। বাধ্য হয়ে ছররা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (কামারখন্দ সার্কেল) আদনান মুস্তাফিজ বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁদের কর্মসূচি শেষ করে জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেশ কিছু দোকানপাট ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। তাঁদের এমন কাজে বাধা দিতে গেলে তাঁরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন। তাঁদের হাতে ধারালো অস্ত্রও ছিল। তাঁদের হামলায় আমি, থানার ওসি এবং ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।’

সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মুস্তাফিজ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।