রঞ্জুর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা। রঞ্জুর বড় বোনের স্বামী সুলতান মিয়া বলেন, এক মাস বয়স থেকে রঞ্জু তাঁর বাড়িতে বড় হয়েছেন। রঞ্জুর কোনো মাদকের নেশা ছিল না। তাঁর শারীরিক কোনো সমস্যাও ছিল না। তাই এই মৃত্যুকে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

রঞ্জুর আরেক বোনের স্বামী রোকন উদ্দিন বলেন, সবশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর কাছে কল করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন রঞ্জু। তখন রঞ্জু জানিয়েছিলেন, রাতে আবার তিনি কল করবেন। কিন্তু সারা রাত আর কল করেননি রঞ্জু। সকালে রঞ্জুর নম্বরে তাঁর স্ত্রী কয়েকবার কল করলেও ওই প্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। সকাল নয়টার পর একজন ফোন ধরে জানান, রঞ্জু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। দুপুর ১২টার দিকে তাঁদের জানানো হয়, রঞ্জুসহ আরেক আনসার সদস্য মারা গেছেন।

খবর পেয়ে রঞ্জুর দুই ভাই মঞ্জু মিয়া, সোহেল মিয়াসহ কয়েকজন স্বজন নরসিংদী যান। লাশ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁরা ধনবাড়ীতে পৌঁছান। লাশ দাফনের পর গতকাল রঞ্জুর স্ত্রী সাথী বেগম মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি গেছেন।

ভাইকে হারিয়ে রঞ্জুর বোন মর্জিনা বেগম পাগলপ্রায়। তিনি বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার এতিম ভাইটা তাঁর মেয়েডারে এতিম কইরা চইলা গেলো। এহন ওদের দেখবো কে?’

নরসিংদী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফিন বলেন, ব্যাংক কার্যালয়ের ভেতর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় রায়পুরা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অনেকগুলো প্রশ্ন সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।