মাদকাসক্ত স্বামীর বঁটির আঘাতে পেটেই নবজাতকের মৃত্যুর এ ঘটনা কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার। এ দম্পতি বিয়ের পর থেকে ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত জাহিদকে আটক করে পুলিশে দেন। মিতু এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানান, মিতুর অবস্থা ভালো নয়।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মিতুর বাবার নাম জিন্নত মিয়া। বাড়ি সিলেট শহরে। ৩৫ বছর আগে জিন্নত মিয়ার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভৈরবে বসবাস শুরু করেন। মিতুর জন্ম ভৈরবেই। আর জাহিদ ভৈরব পৌর শহরের শম্ভুপুর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিকভাবে দুই বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। মিতুর এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের স্বামীর সংসারে মিতুর দুটি সন্তান রয়েছে। জাহিদের সংসারে মিতু প্রথমবারের মতো অন্তঃসত্ত্বা হন।

মিতু এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানান, মিতুর অবস্থা ভালো নয়।

পুলিশ জানায়, গাঁজা দিয়ে জাহিদের নেশার জগতে প্রবেশ। পরে হেরোইন, ফেনসিডিল সেবন করেন। বর্তমানে তিনি ইয়াবা সেবনে আসক্ত। আয়ের প্রায় সব টাকা খরচ হয় নেশাতেই। সংসার চলে ধারদেনা করে। সংসারে জাহিদের আর্থিক জোগান না থাকলেও উল্টো স্ত্রীর কাছে নেশার জন্য টাকা চাইতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায় বিবাদ হতো। বৃহস্পতিবার জাহিদ ইয়াবা সেবন করে রাত সোয়া আটটার দিকে ঘরে এসে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। পরে বঁটি দেখতে পেয়ে হাতে নেন এবং স্ত্রী পেটে কয়েকটি কোপ দেন। এতে মিতু রক্তাক্ত জখম হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীরা এসে জাহিদকে আটক করেন এবং মিতুকে হাসপাতালে পাঠান। গভীর রাতে তাঁকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, মিতুর পেটের সন্তান আর জীবিত নেই। শেষে শুক্রবার সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়।

পুলিশ হেফাজতে জাহিদ নেশা করার কথা স্বীকার করেন। স্ত্রীকে কোপানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাইরে গেলে মিতুকে নিয়ে নানা কথা শুনতে হয়। বৃহস্পতিবার শোনার পর মাথা গরম হয়ে যায়। তখন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে ঘরে এসে যা করেছেন, করার আগে তা বুঝে উঠতে পারেননি।

শুক্রবার কথা হয় মিতুর বোন ঝুমু বেগমের সঙ্গে। ঝুমু বলেন, এখন জাহিদ দিনের বেশির ভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকেন। বলা যায় তাঁর সব মনোযোগ নেশায়। ইয়াবা সেবন করে প্রায়ই ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরে আসতেন। তখন মিতুকে পেটাতেন। ঘরের জিনিস ভাঙচুর করতেন। ঘটনার রাতেও জাহিদ মাদকাসক্ত ছিলেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার ভৈরব থানায় মামলা হয়েছে। বাদী মিতুর মা পারভিন বেগম। একমাত্র অভিযুক্ত জাহিদ। মামলাটির তদন্ত করছেন শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ শ্যামল মিয়া। তিনি জানান, বঁটির কোপটি গভীর ছিল। সেই কারণে কাটা স্থান দিয়ে নাড়িভুঁড়ি সামনে চলে আসে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আঘাতের কারণে পেটের সন্তান মরে যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন