বরগুনা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করল ছাত্রলীগ

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিত্যক্ত থাকা কার্যক্রম–নিষিদ্ধ বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে দেন তাঁরা।

আজ বুধবার বরগুনা শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের নেতা ফাহাদ হাসানের সঙ্গে কয়েকজন একত্রিত হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়টির সামনে আসেন। এ সময় একটি বাঁশের সঙ্গে জাতীয় পতাকা বেঁধে কার্যালয়ে সামনে উত্তোলন করেন তাঁরা। পরে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি টাঙিয়ে দেন।

ফাহাদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশের প্রতিটি আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা বরগুনা জেলা ছাত্রলীগ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার কাজে অংশগ্রহণ করছি। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমাদের পার্টি অফিসটি একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আমরা এই ধ্বংসস্তূপের ছাই থেকে আগুনের ফিনিক্স পাখি হয়ে আবারও জন্মাব নতুন করে।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ুন হাসান বলেন, ‘বর্তমানে রাষ্ট্র ঘোষিত কার্যক্রম–নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অফিসেই ছবি টাঙানো এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তাঁরা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব সকালে এবং অতি গোপনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ছবি টাঙানো ও পতাকা উত্তোলন করা হতে পারে। বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কাজে যারা অংশ নিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বরগুনা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে তালাবদ্ধ করা হয়। এর পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এসব নেতা-কর্মীর অনেকেই আবার সরব হয়েছেন।