আওয়ামী লীগ যেভাবে পালিয়ে গেছে, সেভাবে পালিয়ে যেতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৬ আসনের (চারঘাট ও বাঘা উপজেলা) সংসদ সদস্য আবু সাইদ (চাঁদ)। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেভাবে গেছে, আমি সেভাবে যেতে চাই না। শাহরিয়ার যেভাবে পালাইয়ে গেছে, আমি সেভাবে পালাইয়ে যেতে চাই না। আমি ১০ দিনের জন্য থাকলেও মানুষকে শান্তি দিতে চাই।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সাইদ এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। ওই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শাহরিয়ার আলম।
মাদকের ব্যাপারে আপস না করার ঘোষণা দিয়েছেন আবু সাইদ। থানার ওসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপির লোক হলেও যারা ফেনসিডিলের সঙ্গে জড়িত, তাদের থানায় নিয়ে এসে বাঁধেন। এই ব্যাপারে তদবির করতে কোনো নেতা যদি থানায় যায়, তাকেও ধরেন। মাদকের সঙ্গে আমার কোনো আপস হবে না। আশা করি, আমাদের নেতাদেরও কোনো আপস হবে না। আপনার দারোগারা যদি ওদের (মাদক ব্যবসায়ীদের) সঙ্গে মাসিক চুক্তি হোক, সাপ্তাহিক চুক্তি হোক, তাদের হুঁশিয়ার করে দেবেন।’
আবু সাইদ আরও বলেন, ‘বিডিআররা (বিজিবি) যে মালগুলো (মাদকদ্রব্য) পরিত্যক্ত অবস্থায় পায়, আসামি না ধরে ওটা পরিত্যক্ত হিসেবে দেখায়। কোনো মানুষ এটা বিশ্বাস করবে? ওই আসামিকে ওরা চালান না দিয়ে আজেবাজে লোকের নাম দিয়ে চালান দেয়। মাল ধরলেন, আসামি কই?’
থানার ওসির উদ্দেশে আবু সাইদ আরও বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে বালুঘাট চালাচ্ছে, মানুষের জমি ধ্বংস করে লুটপাট করছে, তাদের ধরে হাজতে পাঠান। ছয় মাসের মধ্যে এগুলো পরিবর্তন করতে হবে। ছয় মাস মেলা সময়। আপনারা পরিবর্তন হন। আমি যদি থানায় গিয়ে বলি কথা শুনছে না, ওই লোককে ধরেন—এটা চলবে না। ওসির ওপর নির্ভর করে, প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করা যাবে না।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শাম্মী আক্তার, বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক ও দলীয় নেতা-কর্মীরা।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে আবু সাইদ বলেন, ‘আজ যাঁরা ডাক্তার, তাঁদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে। আপনারা ডাক্তার, আপনারা থাকতে আমাদের লোক কেন চিকিৎসা করতে ভারতে যেতে হবে। আমার দেশের ডাক্তাররা কি লেখাপড়া জানে না? নাকি নকল করে পাস করেছে? এটা রোধ করতে হবে। আমরা বোঝাচ্ছি বা বোঝানোর চেষ্টা করছি যে আমাদের দেশেও ভালো চিকিৎসা হতে পারে। আমরা চাই, ডাক্তারের যে সেবা, সেই সেবাটা যদি আমরা দিতে পারি, ডাক্তাররা যদি দিতে পারেন, তাহলে আমাদের দেশের মানুষ চিকিৎসা নিতে ভারতে যাবে না।’
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের উদ্দেশে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমাদের আসাদ ভাই বাঘার সন্তান। ছয় মাসের মধ্যে এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। কী কী করতে হবে, আমাকে বলবেন। যদি অর্থনৈতিক সাহায্য করতে হয়, তা-ও করব। আপনি প্রমাণ করে দেবেন ভারতের চেয়ে আমাদের চিকিৎসার মান অনেক ভালো। আমার নেতা তারেক রহমান ভারতের চিকিৎসাকে বয়কট করতে চান। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের স্যালুট করতে চাই।’
দলের নেতাদের উদ্দেশে আবু সাইদ বলেন, ‘থানায় গিয়ে দালালি করা যাবে না। এ দেশ যদি কন্ট্রোল করতে হয়, কত এমপি জেলে যাবে, আপনারা দেখতে পাবেন। কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে যে-ই জড়িত হবে, সে-ই জেলখানায় যাবে।’