ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে ‘ফরিদপুর উন্নয়ন কমিটি’। ১৯৮৫ সালে গঠন করা হয় ‘ফরিদপুর বিভাগ ও পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন কমিটি’। ওই কমিটি পরবর্তী সময়ে ‘ফরিদপুর উন্নয়ন কমিটি’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর ওই কমিটি ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে আসছে।

ফরিদপুর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। আমাদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। এখন বিভাগ হচ্ছে। বিভাগ হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।’

তবে নাগরিক সমাজের অনেকে ‘পদ্মা’ নামের জায়গায় ‘ফরিদপুর’ নামে করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভাগকে পরিপূর্ণতা দিতে ফরিদপুরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা, ফরিদপুরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শিপ্রা গোস্বামী বলেন, বৃহত্তর ফরিদপুর বিভাগ হবে শুনে তিনি খুবই খুশি। তবে ‘পদ্মা’ নামের জায়গায় ‘ফরিদপুর’ নামে হলে তিনি বেশি খুশি হতেন। তিনি বলেন, এখন দ্রুত ফরিদপুরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা জরুরি।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, ‘এ খবরে আমরা অত্যন্ত খুশি। তবে ফরিদপুর পুরোনো একটি জনপদ। বিভাগটি ‘ফরিদপুর’ নামে হলে ভালো হতো। আমাদের দাবি, বিভাগীয় সদর দপ্তরসহ প্রতিটি দপ্তর ফরিদপুর শহরে স্থাপন করা হোক। এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জানাই।’

প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সৈয়দ মোদাররেছ আলী বলেন, ‘ফরিদপুরের মানুষ হিসেবে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের দাবি অনেক পুরোনো। দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। পাশাপাশি ফরিদপুর নামটি ৪০০ বছর ধরে এ অঞ্চলের সঙ্গে মিশে আছে। নামটি না থাকায় খারাপ লাগছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এ জন্য ফরিদপুরের জনগণ ও জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। তিনি জেনেছেন, বিভাগীয় সদর দপ্তর ফরিদপুর শহরে হচ্ছে। অনেক বড় পাওয়া। নতুন নতুন ভবন হবে। এর মাধ্যমে ফরিদপুর শহর নতুন করে ঢেলে সাজানোর সুযোগ পাওয়া যাবে।