মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই রামগতির চর আলগী ইউনিয়নের চর আলগী গ্রামের মৃত আকবর আলীর মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে শাহজাহানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তখন প্রায় ১ লাখ টাকার মালামাল কিনে শাহজাহানকে দেওয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন যাওয়ার পর ফাতেমাকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। যৌতুক না পেয়ে বিভিন্ন সময় তাঁকে নির্যাতনও করা হয়। একই বছরের ২১ আগস্ট শাহজাহানকে নিয়ে ফাতেমা তাঁর বড় বোন রাশেদা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন সকালে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ওই বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যান। এরপর দুজনের কেউই ঘরে ফেরেননি। রাশেদা তাঁদের খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের ভাসমান অবস্থায় ফাতেমার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

একই দিন ফাতেমার ভাই মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে রামগতি থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামগতি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল হাই শাহজাহানের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে শাহজাহান দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। বিচারক তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে ফাতেমার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তাঁকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন