খলিশাকুড়ি এলাকার খাসজমিতে সরকারি উদ্যোগে হাই–টেক পার্ক নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এই এলাকার তিন মাথার মোড় থেকে জমচওড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি ভাঙাচোরা। পিচঢালাই উঠে যেখানে-সেখানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলাচল করতে পারে না। 

খলিশাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মালেক বলেন, এক পাড়া থেকে আরেক পাড়ায় যাওয়ার সড়কগুলো বেহাল। তবে প্রধান সড়কগুলো পাকা হয়েছে। গ্রামীণ জনপদ হওয়ায় খুব সহজে অটোরিকশা কিংবা রিকশাও মেলে না। তাই রাতের বেলা চলাচলে কষ্ট হয়। 

রাম গোবিন্দ এলাকার সমাজকর্মী গোলজার রহমান বলেন, ‘সিটি করপোরেশন হওয়ার পর শুধু রাস্তার কাজ করতে দেখেছি। তবে ভেতরের রাস্তা খারাপ। বর্জ্যের কোনো ট্রাক আসে না, যেখান-সেখানে ফেলা হয়। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।’

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দেওয়ানী বলেন, ওয়ার্ডের উন্নয়নে তাঁর চেষ্টার কমতি ছিল না। সাধ্যমতো কাজ করেছেন।

সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও জাতীয় যুব সংহতির ওয়ার্ড সভাপতি আজাহার কবীর বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ও সাহেবগঞ্জ বাজারের দুরবস্থা দূর করবেন। 

আরাজি, গুলালগুদাই, মহব্বত খাঁ, বধূকমল, চানকুঠি, কার্তিক ও খলিশাকুড়ির কিছু অংশ নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড। সরেজমিন দেখা যায়, মলবির মার্কেট, বাংরির বাজার, রুবেলের বাজার থেকে সাহেবগঞ্জ হেলিপোড পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশ ভাঙাচোরা আর কিছু অংশ ভালো। সড়কবাতির খুঁটি বসানো হলেও বিদ্যুতের তার ও বাতি নেই। 

আরাজি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া বলেন, শুধু ভোটের সময় সবার দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। এমনি সময় খবর নেই। 

বর্তমান কাউন্সিলর ও হারাগাছ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনার রশিদ বলেন, তাঁর আমলের এই ৫ বছরে এলাকার সাড়ে ১৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা হয়েছে। এক হাজারের অধিক সড়কবাতির খুঁটি স্থাপন করা হলেও বাতি লাগানো হয়নি। একই সঙ্গে এক হাজার মিটার নালার কাজ হয়েছে।

এ ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সমর্থক মনজুম কুঠিয়াল বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। জনগণের সঙ্গে বৈঠক করে কী কী করা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী কাজ করবেন। 

৭ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে উঠেছে নগরের বকশা, বুদাই, গুলাল বুদাই, হরিরামপুর, তপোধন ও বেণুঘাট এলাকা নিয়ে। এটিও সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা। নেই ব্যস্ততা, কোলাহল। চারদিকে শুধু আবাদি জমি। ওয়ার্ডের তপোধনের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার প্রধান সড়ক পাকা। তবে বিভিন্ন এলাকার ১০ কিলোমিটারের মতো সড়ক এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। নালাও নির্মাণ করা হয়নি। বর্জ্য অপসারণ নিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে লোকজন।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির আহ্বায়ক (৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ড) মাহফুজার রহমান বলেন, ‘সাধ্যমতো উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এক টার্মে সব উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।’ 

এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হারাগাছ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম বলেন, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।