চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে বাসে যৌন হয়রানি, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়গ্রাফিক্স: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে খাগড়াছড়িগামী একটি লোকাল বাসে যৌন হয়রানি অভিযোগ উঠেছে। এ সময় প্রতিবাদ করায় তাঁকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে ফটিকছড়ি থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ জসিমের (৩৫) বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত তোফায়েল আহমেদ।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি খাগড়াছড়িগামী একটি লোকাল বাসে ওঠেন এবং সামনের একটি আসনে বসেন। এ সময় তাঁর পেছনের আসনে বসা ওই যাত্রী সিগারেট ফেলার অজুহাতে তাঁর শরীরে স্পর্শ করেন। ওই শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং হুমকি দেন। পরে অন্য যাত্রীদের হস্তক্ষেপে হাটহাজারী এলাকায় অভিযুক্ত, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান বাস থেকে নেমে যান।

এর কিছুক্ষণ পর ফটিকছড়ির একটি বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী নামানোর জন্য বাসটি থামলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে গিয়ে আবার বাসে ওঠেন। এরপর তিনি ওই শিক্ষার্থীর চুল ধরে টান দেন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ। পরে যাত্রী, চালক ও সহকারীর সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে ফটিকছড়ি থানায় নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি বাসের জানালার পাশে বসেছিলেন। এ সময় পেছনে বসা ব্যক্তি সিগারেট ফেলার অজুহাতে তাঁর শরীর স্পর্শ করেন। তিনি ও অন্য যাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন। পরে একবার তাঁকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও ফটিকছড়িতে পৌঁছানোর পর তিনি আবার বাসে উঠে তাঁর চুল ধরে টান দেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, যাত্রীদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে আটক করে ফটিকছড়ি থানায় নেওয়া হয়। ঘটনার সময় ওই শিক্ষার্থী একাই খাগড়াছড়িগামী লোকাল বাসে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনাটি হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলার মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।