কম্বল পেলেন শীতার্ত ২৪০ জন

কম্বল পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁরা। গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদরের হিজলগাড়ি বহুমুখী কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং চত্বরেছবি: প্রথম আলো

‘কদিন ধইরে খুব জাড় (ঠান্ডা) লাগজে। পাতলা খ্যাতায় (কাঁথায়) শরীল গরম হয় না, ঘুম আসতি চাই না। আইজগে আমি আর দাদি এই নোতন কোম্বলডা গায় দি শোবো। দুজনই খুপ আরাম পাবুনি। ঘুমডাও ভালো হবে নে।’

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দেওয়া কম্বল পেয়ে এভাবেই কথাগুলো বলে ৮ বছরের স্নিগ্ধা খাতুন। সে সদর উপজেলার হিজলগাড়ি বহুমুখী কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটির মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। থাকে ডিহি-কৃষ্ণপুর গ্রামে তার দাদির কাছে।

প্রথম আলো বন্ধুসভা চুয়াডাঙ্গার সদস্যদের সহযোগিতায় গতকাল রোববার বিকেলে হিজলগাড়ি বহুমুখী কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থী ও আশপাশের এলাকায় ২৪০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় কম্বল। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করেছে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেড।

মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র পিতৃহারা নাহিদ হোসেন বলে, ‘নোতন কোম্বলডা বাড়ি নি গিয়ে আম্মুকে দেব। ছিঁড়া খ্যাতার ভেতর শুই—ঘুম আসে না। মা খুপ কষ্ট করেন। তাই কোম্বলডা মাকেই দেব।’

টানা চার দিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর গতকাল সকালে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা আগের দিনের তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। গতকাল সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু সারা দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। সঙ্গে ছিল ঘন কুয়াশা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাস। এতে মানুষের যখন জবুথবু অবস্থা, ঠিক সেই দিনে শীতার্ত মানুষগুলো পেল নতুন কম্বল।

 গতকাল বিকেলে মাদ্রাসাটির ১৬০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদ চুয়াডাঙ্গা শহর ও শহরতলিসহ আশপাশের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে আরও ৮০ জন শীতার্ত মানুষকে কম্বল তুলে দেন।

বন্ধুসভার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন কম্বল বিতরণের সময় বলেন, ‘এটা কোনো সরকারি অনুদান নয়। আমরা সরকারের কোনো পৃষ্ঠপোষকতায় আসিনি। প্রথম আলো ট্রাস্টের হয়ে আমরা এভাবেই মানুষের পাশে থাকতে চাই।’

আলমডাঙ্গা ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক জাকারিয়া হিরো কম্বল বিতরণকে মহতী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, ‘এটি এমন ভালো কাজ, যা কোনো ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। প্রথম আলো সব সময় ভালোর সাথে আলোর পথে থাকবে—সেটাই প্রত্যাশা।’

মাদ্রাসার মোহতামিম মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘আমরা আনন্দিত। সারা বাংলাদেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় যখন তাপমাত্রা কমে চলেছে, সে সময় কম্বল বিতরণকে জনকল্যাণমূলক মানবিক ও উত্তম কাজ হিসেবে আল্লাহ কবুল করুক।’

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রথম আলো ট্রাস্টের ত্রাণ তহবিলে ইলেক্ট্রোমার্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্নজন দিয়েছেন ৮৮ হাজার টাকা। আর নগদ ৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।