মেয়র পদে আওয়ামী লীগের চার মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ। 

তফসিল ঘোষণার পর তিন নেতা প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সাফিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১২ সালে আমি মেয়র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এবারও প্রার্থী হতে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করব। ইতিমধ্যে সিটির বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগও শুরু করে দিয়েছি।’

সাফিউর ছাড়া অন্য তিন নেতা গণসংযোগে পিছিয়ে নেই। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসতে কেউ কেউ ঢাকায় গেছেন। তুষার কান্তি মণ্ডল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় এসেছি। মেয়র পদে দলের মনোনয়নের জন্য অবশ্যই আবেদন করব মনোনয়ন বোর্ডের কাছে।’ আতাউর জামান বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করতে মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় যাবেন।

জাপায় এখন পর্যন্ত একজনই সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি হলেন বর্তমান মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান। গত ২৫ অক্টোবর রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত মহানগর জাপার সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজারের নাম ঘোষণা করেন।

মোস্তাফিজার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকে তিনি মাঠে নেমে পড়েছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া নেই। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোস্টার-বিলবোর্ড টানালেও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো প্রচারণা দেখা যায়নি। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মাহফুজ উন নবী প্রথম আলোকে বলেন, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নেই। তাই সিটির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনাও নেই।

তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। মনোনয়ন বাছাই ১ ডিসেম্বর ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ৮ ডিসেম্বর। এরপর প্রতীক বরাদ্দ হবে ৯ ডিসেম্বর। ২৭ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন কেন্দ্র করে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী আগাম প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। এসব প্রার্থীর পোস্টার–ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।