বগুড়ায় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাংবাদিক নিহত
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার ফুলতলা-শাকপালা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই সাংবাদিকের নাম গোলাম নবী ওরফে নবী রহমান। তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌর এলাকার বাসিন্দা। বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালের খবর পত্রিকার সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। তাঁরা সবাই ওই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন কাহালু উপজেলার টিটিয়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৬১) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. মর্জিনা বেগম (৫০), মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা ধীরাজ (৫০), দুপচাঁচিয়া উপজেলার বেলুহালী গ্রামের মো. আশরাফ (৭০)।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ির টিএসআই লালন হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক গোলাম নবীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত দম্পতিসহ অন্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক শাকপালা মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় দুপচাঁচিয়ার তালোড়া থেকে বগুড়া শহর অভিমুখী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ট্রাকটির। সংঘর্ষে অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গোলাম নবী মারা যান।
বগুড়ার কৈগাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক রাজু কামাল প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাক ও অটোরিকশার চালক দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন।
শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহত গোলাম নবীর লাশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ এখনো স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পায়নি। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।