সিলেট নগরের সুরমা নদীর উত্তর পার ঘেঁষে কিনব্রিজের ঠিক নিচেই ময়নার চায়ের দোকান। সিলেট শহরে আসার পর এখানেই ফুটপাতে চায়ের দোকান চালু করেন ময়না। সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা তিনি দোকান চালু রাখেন। এখানকার ২৩ ব্যবসায়ীর মধ্যে একমাত্র তিনিই নারী ব্যবসায়ী। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয় তাঁর। তা দিয়েই ময়না ঘরভাড়া, বৈদ্যুতিক বিল, ছোট ছেলের পড়াশোনার ব্যয় ও খাবারের খরচ মেটান।

ময়না বলেন, ২০০৪ সালে তাঁর বিয়ে হয়। সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে তাঁর। স্বামী তাঁকে ছেড়ে নতুন সংসার পাতলে তিনি একাই সন্তানদের বড় করছেন। ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশোনা শেষ করে কাজ করে ছেলে তাঁর দুঃখ দূর করবে, সেই আশায় আছেন ময়না।

ময়না বললেন, ‘বাজার ভালা অইলে কিছু বেচাবিক্রি হয়। বিক্রি না হইলে ঋণ কইরা টাইনাটুইনা চলা লাগে। আয়-রুজি এখন আগের মতো নাই, কুনুসুরত পেট চলে আমরার। আগের চেয়ে বেচাকেনা অর্ধেকে নাইমা গেছে। ভাবছিলাম, মেয়েরে বিয়া দিয়া দিমু। পয়সার অভাবে এই চিন্তা মাথাত-ই আনতাম পারতাছি না। আর, যেদিন রুজি একটু ভালা হয়, সেদিন মাছ, মাংস একটু কিইনা খাই। নইলে প্রায়দিনই আমরা ডাইল-ভাত খাই।’

ময়নার আসল নাম মনোয়ারা বেগম। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের কুড়িয়াটিয়া গ্রামে। ময়না বলেন, ইদানীং তিনি ভারী কাজ খুব একটা করতে পারেন না। কিডনিসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। টাকার অভাবে চিকিৎসাও ঠিকমতো করাতে পারছেন না। কিছুদিন আগে পরিচিত একজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ করে চিকিৎসক দেখিয়েছেন। সে টাকা এখন কীভাবে শোধ করবেন, সেটা ভেবেও কূলকিনারা পাচ্ছেন না। তিনি সুনামগঞ্জের ভোটার। তাই সিলেটের কাউন্সিলর কোনো সহযোগিতাও করেন না। বন্যার সময় তাঁর ভাড়া করা ঘরে বুকসমান পানি ছিল। তবে নগরের ভোটার না হওয়ায় তিনি ত্রাণ সুবিধা পাননি।

ময়না বললেন, ‘কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করি দোকান চালাই। ৪০ হাজার টাকা হইলে একটা ভ্যান নিজেই কিনতে পারতাম। এইটা হইলে প্রতিদিন ভ্যানভাড়া ২০০ টাকা বাঁচি যাইত। টানাটানির সংসারে টাকাও জমাইতাম পারতাছি না।’