দুই বছর আগে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৭ জেলে নিখোঁজ হন। তখন থেকেই তাঁদের ফিরে আসার আশায় দিন গুনছেন স্বজনেরা। নিখোঁজ জেলেদের ভারতের কারাগারে বন্দী থাকার তথ্য পেয়ে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে পুলিশ। এতে জেলেদের ফিরে পাওয়ার আশা দেখছেন স্বজনেরা।
এ বিষয়ে বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে নিখোঁজ হন বরগুনার ১৭ জেলে। পরিবারের কাছ থেকে এসব জেলেদের ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাজধানী ঢাকার এসবিতে পাঠানো হয়েছে।
নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জনের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়। এর মধ্যে নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন। তাঁরা হলেন আবদুর রব মিয়া, মনির হোসেন, খলিলুর রহমান, লিটন হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম, কালুমিয়া ও সিদ্দিক মৃধা। ঢলুয়া ইউনিয়নের ৯ জন হলেন আবদুল খালেক বয়াতি, আউয়াল বিশ্বাস, আল আমিন, নান্টু খান, মো. ইউনুস, মো. সোবাহান খান, মো. মাহতাব, মো. কামাল ও মো. ফারুক। আরেকজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতি সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি ট্রলারে ওই ১৭ জেলে সাগরে মাছ ধরতে যান। ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে ট্রলারটি নিখোঁজ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি। দুই বছর পর সম্প্রতি জানা যায়, তাঁরা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে বন্দী।
ওই জেলেদের একজন ইউনুস সরদার। তাঁর পরিবারে আছেন মা, স্ত্রী ও এক মেয়ে। ইউনুস নিখোঁজ হওয়ার কিছুদিন পর মারা যান তাঁর বাবা। পরিবারের সদস্যরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। জরাজীর্ণ ঘরের সামনে বসে ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রায়ই অপেক্ষায় থাকেন ইউনুসের মা তারাবানু (৭০)। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘শুনছি আমার পোলাডা ইন্ডিয়ার জেলে আছে। দুই বছর পর এই খবর শোনার পর বুকটা ভরে উঠছে। কখন পোলাডা বাড়ি ফিরবে, সেই অপেক্ষায় আছি। দুই বছর ধরে আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। অপেক্ষায় আছি কখন পোলাডা বাড়ি ফিরব, কখন পোলাডারে কোলে লমু।’
আরেক জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার বলেন, দুই বছর তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর জানতে পারেন, তাঁর স্বামী ভারতের একটি কারাগারে বন্দী। পুলিশের কাছে নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে দ্রুতই তাঁরা দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
ওই ১৭ জেলের গুজরাটের কারাগারে বন্দী থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বলে দাবি করেন বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা। তিনি চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়েছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিখোঁজ জেলেদের স্বজনেরা আবেদন করেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর পররাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ মধ্যে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলেদের ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান। এতে কিছুটা সময় লাগলেও আমরা আশাবাদী।’