ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানায়, যখন ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হানে, তখন ভোলার সাত উপজেলায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৯৪ একর জমিতে ফসল ছিল। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরে ক্ষতির কবলে পড়েছে ৮০ হাজার ৭২৫ একর জমির ফসল। ৭২ হাজার ৯৫৬ একর জমির ধানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৬৯ একর জমির সবজি ও পানের সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার ৫৬ হাজার কৃষক।

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদ রানা বলেন, রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নের দুই শতাধিক কৃষক মেঘনা নদীর মাঝের ভোলার চর, গবিন্দপুর, কানিবগার চরে প্রায় তিন হাজার একর জমিতে আগাম সবজির আবাদ করেছেন। সিত্রাংয়ের আঘাতে প্রত্যেক কৃষকের দুই থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সিত্রাংয়ের আঘাতের পর ভোলা সদর, চরফ্যাশন, দৌলতখান ও মনপুরা উপজেলায় সরেজমিন দেখা যায়, সবজিখেতের গাছের চারা তো দূরে থাক, চাষ দেওয়া খেতের মাটি ধুয়ে অনেক নিচের শক্ত মাটি বের হয়ে গেছে। ধানের অনেক খেত এখনো পানির নিচে। ক্ষতিগ্রস্ত ধানের থোর শুকিয়ে যাচ্ছে। সবজির খেতেও হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি।

দৌলতখান উপজেলার মধুপুর এলাকার কৃষক আবুল হাসান বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে চরাঞ্চলে আগাম সবজি ও তরমুজ আবাদ করে আসছেন। গড়ে ৪০ একরে আবাদ করেন। সবজির জন্য প্রাথমিকভাবে সাত একর জমিতে ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা, শসা, ঝিঙে লাগিয়েছিলেন। সিত্রাংয়ের আঘাতে জোয়ারের পানি সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে তাঁর আট লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ বলেন, মদনপুর ইউনিয়নে ২২২ একর সবজি খেত একদম নষ্ট হয়ে গেছে। আর ৭ হাজার ৪১০ একর জমির ধানের ২৫ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মোস্তফা বলেন, কৃষকেরা এখন আর নিজের জন্য সবজি বা ফসল আবাদ করেন না। তাঁরা ভালো দাম পেতে আধুনিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৌসুমের অনেক আগেই সবজির আবাদ করছেন। সেই আগাম সবজি সিত্রাংয়ের আঘাতে সব শেষ হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার ৮ হাজার ৩৭০ জন কৃষকের ৩ হাজার ১২৪ একর জমির ধানের আংশিক এবং ২৬০ একর জমির সবজি সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক নিজামউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ২২ বছর ধরে মাঝের চরে নানা ধরনের ফসল আবাদ করছেন। কখনো ব্যাংক, কৃষি অফিস কিংবা সরকারি অধিদপ্তর থেকে কোনো সাহায্য পাননি। সাহায্য দরকারও নেই, তবে ঋণ দরকার। যদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুপারিশ করে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের উপকার হতো। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর বলেন, বিষয়টি সরকারকে জানানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসন ও প্রণোদনা সুবিধা এলে কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।