বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ। এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। ঢাকার আগে এটাই শেষ সমাবেশ। এ জন্য সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাই জানেন, সরকার তিন থেকে চার দিন আগেই হরতাল দেবে, বাস-ট্রেন বন্ধ করে দেবে। রংপুরে সমাবেশে অংশ নিতে নেতা-কর্মীরা বড় বড় গুদামঘর ভাড়া নিয়েছিলেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ রাত কাটিয়েছেন। এখানেও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সব ব্যবস্থা করা গেলে সমাবেশ সফল হবে। তাহলে সরকার হরতাল দিয়েও সমাবেশ ব্যর্থ করতে পারবে না।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে সরকার জোর করে জনগণের ওপরে চেপে বসে আছে। সরকারের নিপীড়নমূলক শাসনে আজ বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করে, স্বাধীনভাবে চিন্তা করে, তাঁদের ১৫ বছর ধরে নির্যাতন করেছে। জাতিকে শোষণ করতে করতে এবং লুটপাট করে দেশের টাকা পাচার করে বাংলাদেশ এখন টাকা পাচারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখে দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজ দেশকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই দুর্ভিক্ষের কথা বলছেন। আমার প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী বড় বড় করে বলেছেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তাহলে কি উনি এত দিন মিথ্যা ভাষণ দিয়েছেন?’

সভাস্থল ত্যাগ করলেন অনেক নেতা-কর্মী

সমন্বয় সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন কয়েক নেতা-কর্মী কথা বলছিলেন। তিনি তাঁদের কথা বলতে নিষেধ করেন। এ সময় হট্টগোল দেখা দিলে বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ মাইক নিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যাঁরা এখানে আসার দাওয়াতপত্র পাননি, তাঁরা চলে যান। অনেকে দাওয়াতপত্র না পেয়ে এসেছেন। এর আগে চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুরে এ ধরনের সভায় যাঁদের ডাকা হয়েছে, তাঁরাই এসেছেন। আর কেউ আসেননি। এখানে সবাই ঢুকে গেছে। আপনারা বের হয়ে যান।’

একজন দাঁড়িয়ে সবাইকে বের হয়ে যেতে বললে ইকবাল হাসান মাহমুদ তাঁর উদ্দেশে রেগে বলেন, ‘আমি কথা শেষ করিনি কিন্তু। আমি আশা করি, তোমরা সবাই চলে যাবে। এখানে থেকো না। অনেক কিছু আলোচনা হবে। এখানকার আলোচনা বাইরে যাওয়া যাবে না।’

এ সময় দাওয়াতের বাইরে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যান। কেউ কেউ বলতে থাকেন, ‘তৃণমূলের মূল্যায়ন নাই। এই চল চলে যাই।’ তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির এই সভা পুরোটা ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’ ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার করা হয়েছে।