চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর দুটি হলে তল্লাশি চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ। এতে পাঁচ বহিরাগত ব্যক্তিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার রাত ১০ টায় এ তল্লাশি শুরু হয়। চলে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত। হল দুটি হলো শাহজালাল ও শাহ আমানত। তল্লাশি চলাকালে শাহ আমানত হল থেকে পাঁচ বহিরাগত ব্যক্তি ও শাহজালাল হল থেকে একটি রামদা, কয়েকটি লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও স্টাম্প উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, তাৎক্ষণিক আটক পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের হাটহাজারী থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে শুক্রবার আবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের দুটি পক্ষ। পক্ষ দুটি হলো, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া সিএফসি ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সিক্সটি নাইন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে চার নেতা-কর্মী আহত হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিবাদমান সিক্সটি নাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হল ও সিএফসি শাহ আমানত হল দখল করে থাকেন। এ দুটি হল পাশাপাশি। গতকালের সংঘর্ষ পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে আবার দু-পক্ষের নেতা কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। একে অপরকে লঞ্চ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বিভিন্ন স্লোগান দেন। রাত নয়টা পর্যন্ত কয়েক দফায় এমন চলতে থাকে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। পরে রাত দশটায় দুই হলে তল্লাশি চালায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ।
যে হল থেকে বহিরাগতের আটক করা হয়েছে সে হলটি নিয়ন্ত্রণ করেন সিএফসির নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মির্জা খবির সাদাফ। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের আটক করা হয়েছে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেড়াতে এসেছিলেন। এরা সবাই তাঁর অনুসারীদের আত্মীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কারও আত্মীয় বেড়াতে আসা স্বাভাবিক।