যারা মারা গেছে, সরকার এখন পর্যন্ত তাদের সন্ত্রাসী প্রমাণ করতে পারেনি: জি এম কাদের
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, কোটা আন্দোলনে সরকার ও সরকারি দল রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছে। রাষ্ট্র সবার। রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রের সম্পদ। যে রাষ্ট্রযন্ত্র রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্র সরকারকে বাঁচাতে নির্বিচার গুলিবর্ষণ করল।
রংপুরে দুই দিনের সফরে এসে জি এম কাদের আজ বুধবার বিকেলে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়েছে, বহুতল ভবন থেকে গুলি করা হয়েছে। এতে অনেক নিরীহ মানুষ মারা গেছে। শিশু মারা গেছে। যারা মারা গেছে, সরকার এখন পর্যন্ত তাদের সন্ত্রাসী প্রমাণ করতে পারেনি। এখানে আমার প্রশ্ন, এই নির্বিচার হত্যা চালাল কেন? সরকার যদি সন্ত্রাসীদের দমন করতে চায়, তাহলে আগে থেকে চিহ্নিত করে দমন করতে পারত।’
জি এম কাদের বলেন, আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে গুলিবর্ষণে কে নিরীহ মানুষ, কে সন্ত্রাসী, কীভাবে চিহ্নিত হবে? তার সঙ্গে সরকারের পেটোয়া বাহিনী ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কোটা আন্দোলনের সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনায় বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে নষ্ট হয়েছে। এমনিতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। সরকার দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি না করে বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক করছে। এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। ধরপাকড় হবে। দেশে একটি দুষ্ট চক্র তৈরি হয়েছে। এই দুষ্ট চক্রের হাত থেকে খুব সহজে রেহাই মিলবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। তা না হলে সহজে এই সংকট দূর হবে না। দিন যত যাবে, ততই বাড়বে সংকট।
এ সময় রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াছির, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আজমল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।