স্থানীয় লোকজন, আহত তসলিমের পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরিকল ইউনিয়নের সরিকল গ্রামের সৈয়দ আলী খানের বড় ছেলে তসলিম খান জন্মগতভাবে বুদ্ধি ও বাক্‌প্রতিবন্ধী। তিনি মাঝেমধ্যে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে যেকোনো দলের সমাবেশে যেতে বললেই চলে যান তিনি। ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের সমাবেশেও যোগ দিয়েছেন।

হামলাকারী যুবলীগের নেতা-কর্মীরা জানেন আমার বড় ভাই একজন বুদ্ধি ও বাক্‌প্রতিবন্ধী সহজ-সরল মানুষ। যেকোনো দল তাঁকে ডাক দিলেই তিনি চলে যান। এরপরও তাঁকে জনসমক্ষে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছেন। এমনকি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিতে দেননি।
মো. জসিম খান, হামলার শিকার বুদ্ধি ও বাক্‌প্রতিবন্ধী তসলিম খানের ভাই

তসলিমের বাবা সৈয়দ আলী খান (৮৫) প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছেলে জন্মগতভাবে বুদ্ধি ও বাক্‌প্রতিবন্ধী। সে অত্যন্ত সহজ-সরল। যে কেউ তাকে ডাক দিলে যেকোনো দলের সমাবেশে চলে যায়। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে বরিশাল বিএনপির সমাবেশে নিয়ে যায়। গতকাল রাত ৯টার দিকে তসলিম সরিকল বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার অভিযোগে সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. হাসানের (৩০) নেতৃত্বে দুই-তিনজন বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে তাকে পিটিয়ে জখম করেছেন। এ সময় স্থানীয় ব্যক্তিরা আমার ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারী হাসপাতালে নিতে বাধা দেন। পরে আমি ছেলেকে নিয়ে সরিকল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে গেলে পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়।’

আহত তসলিমের ছোট ভাই মো. জসিম খান অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারী যুবলীগের নেতা-কর্মীরা জানেন আমার বড় ভাই একজন বুদ্ধি ও বাক্‌প্রতিবন্ধী সহজ-সরল মানুষ। যেকোনো দল তাঁকে ডাক দিলেই তিনি চলে যান। এরপরও তাঁকে জনসমক্ষে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছেন। এমনকি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নিতে দেননি।’

হামলার অভিযোগ সত্য নয় দাবি করেছেন সরিকল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. হাসান। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ করা হয়েছে। সরিকল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. জানে আলম বলেন, তসলিম একজন প্রতিবন্ধী, এটা সত্য। তবে হামলার ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই।

অভিযোগ না নিয়ে তসলিম খান ও তাঁর বাবাকে ফাঁড়ি থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে সরিকল পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক মো. ফিরোজ ফোরকান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেননি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, আমার জানা নেই।’