তামাকের মাঠে স্ট্রবেরি চাষ, কৃষক কাইছারের বাজিমাত
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে তামাকের চাষ। তবে এবার সেই মাঠের একাংশে স্ট্রবেরির চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ কাইছার (৪২)। তিনি কাকারা ইউনিয়নের মিনিবাজার এলাকার বাসিন্দা।
কাইছারের স্ট্রবেরি খেতটি বাড়ির কাছে মাতামুহুরী নদীর চরে। ৩০ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন তিনি। কাইছার জানান, চাষের জন্য শুরুতে রাজশাহীর একটি নার্সারি থেকে আমেরিকান ‘ফেস্টিভ্যাল’ জাতের চার হাজার চারা সংগ্রহ করেন তিনি। প্রতিটি চারার দাম ছিল ৬০ টাকা। এ ছাড়া জমি প্রস্তুত, সার, শ্রমিকসহ সব মিলিয়ে চাষাবাদে খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। তবে এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন তিনি। কাইছার বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছি।’
কাইছার স্ট্রবেরির চারা রোপণ করেন গত বছরের ১৭ নভেম্বর। এর অল্প সময়ের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ২৮ জানুয়ারি ফল সংগ্রহ শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৭ কেজি স্ট্রবেরি সংগ্রহ হচ্ছে। এসব ফল চকরিয়া ও কক্সবাজার শহরের সুপারশপ, ফলের দোকান ও পাইকারদের কাছে সরবরাহ করা হয়।
কাইছার স্ট্রবেরির চারা রোপণ করেন গত বছরের ১৭ নভেম্বর। এর অল্প সময়ের মধ্যে গাছে ফুল আসে। ২৮ জানুয়ারি ফল সংগ্রহ শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৭ কেজি স্ট্রবেরি সংগ্রহ হচ্ছে। এসব ফল চকরিয়া ও কক্সবাজার শহরের সুপারশপ, ফলের দোকান ও পাইকারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। প্রতি কেজি স্ট্রবেরি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তিনি।
স্ট্রবেরির সঙ্গে কাইছারের পরিচয় নতুন নয়। তিনি জানান, ২০০৭ সালে প্রথম এই ফলের চাষ করেছিলেন তিনি। তবে স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকায় দুই বছর পর স্ট্রবেরির চাষাবাদ বন্ধ করে দেন। পরে ২০২১ সালে আবার চাষ শুরু করেন। গত মৌসুমে প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করে আট লাখ টাকা লাভ করেছেন তিনি।
কাইছারের মতে, স্ট্রবেরি শীতকালীন ফল। ঝরঝরে মাটিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে আগাছা কম হয় এবং ফল পরিষ্কার থাকে। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। শীত ও কুয়াশা বেশি হলে ফলনও বাড়ে।
স্ট্রবেরি শীতকালীন ফল। ঝরঝরে মাটিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করলে আগাছা কম হয় এবং ফল পরিষ্কার থাকে। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। শীত ও কুয়াশা বেশি হলে ফলনও বাড়ে।
মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে বর্ষায় নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চরে পলিমাটি জমেছে, যা উর্বর করেছে জমিকে। এতে স্ট্রবেরির ফলন ভালো হয়েছে বলে মনে করছেন কাইছার। তিনি বলেন, আগে তিনি ১২ একর জমিতে তামাক চাষ করতেন। এখন ধীরে ধীরে তা কমিয়ে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও ব্রকলি চাষ করছেন। চলতি মৌসুমে মাত্র দেড় একর জমিতে তামাক চাষ করেছেন। ভবিষ্যতে তা পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কাইছারের খেতে ভালো ফলন হওয়ায় অন্য কৃষকেরাও স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনেকেই তাঁর খেত পরিদর্শন করে স্ট্রবেরি চাষের বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, কাইছারের উদ্যোগ এলাকায় বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহ তৈরি করছে। কৃষি বিভাগ থেকেও তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।