পুলিশকে মারধর করে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিলেন মালিকের লোকজন

যশোরের কেশবপুরে পুলিশকে মারধর করে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার চিংড়া গ্রামেছবি: সংগৃহীত

যশোরের কেশবপুরে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর সেটি আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ফেরত দেওয়ার দাবি করেন মালিক ও তাঁর সঙ্গে থাকা একদল যুবক। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা পুলিশের এক কর্মকর্তাকে মারধর করে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেন। পরে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চোরাই মোটরসাইকেলটি রাখার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাসানপুর গ্রামের আশরাফুজ্জামান রুমি নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল আজ শুক্রবার ভোরে বাড়ি থেকে চুরি হয়। আশরাফুজ্জামান উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য। পরে ওই মোটরসাইকেলটি উপজেলার চিংড়া গ্রামের আবদুর রশিদের (৪০) বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম।

খবর পেয়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে আশরাফুজ্জামানসহ ৪০-৫০ জন কিশোর ও যুবক সেখানে গিয়ে মোটরসাইকেলটি তাঁদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। এএসআই নজরুল ইসলাম তাঁদের জানান, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁরা নজরুল ইসলামের ওপর হামলা করেন এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নিয়ে যান।

পরে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আবদুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি মোটরসাইকেলের মালিককে আইনি প্রক্রিয়ায় যানটি বুঝে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এতে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।

ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাঁদের আটক করতে অভিযান চলছে।