ব্যাংকের ভেতর গোল দিচ্ছেন গ্রাহকেরা, কুইজে জিতে পাচ্ছেন ফুটবল–বাঁশি

এক দিনব্যাপী গ্রাহকদের জন্য গোলের উল্লাসে লেনদেন করার ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরব পৌরসভার বঙ্গবন্ধু শরণি সড়কে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখায়ছবি: প্রথম আলো

ফোরকান আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখায় আসেন। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা অস্থায়ী গোলপোস্ট দেখে প্রথমে তিনি চমকে যান। গোলপোস্ট ঘিরে অন্য গ্রাহকদের বেশ আগ্রহ ও কৌতূহল। গোলরক্ষকবিহীন গোলপোস্টে বিনা বাধায় অনেককে গোল দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছিলেন। ওই ঘটনা দেখে ফোরকান আহমেদ আগ্রহ জাগে। শেষে চারটি গোল দিয়ে তিনি ক্যাশ কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যান।

হাসিমুখে ফোরকান আহমেদ বলেন, ‘টাকা জমা দিতে এসে বিশ্বকাপের উত্তেজনায় যুক্ত হয়ে গেলাম, গোল দিলাম। গোলের উল্লাসে লেনদেন করে ভিন্ন রকমের ভালো লাগার অভিজ্ঞতা যুক্ত হলো জীবনে।’

গোলরক্ষকবিহীন এই গোলপোস্টে গ্রাহকেরা গোল দিয়ে লেনদেন করতে যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরব পৌরসভার বঙ্গবন্ধু শরণি সড়কে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখায়
ছবি: প্রথম আলো

ব্যাংকের ওই শাখার কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজকে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রাহকদের আনন্দ দিতে এনআরবিসি ব্যাংক ভৈরব শাখা এক দিনের জন্য ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেছে। ঘড়িতে সকাল ১০টা বাজতেই বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে শুরু হয় দিনের লেনদেন। আয়োজনটি লেনদেনের হিসাব ছাপিয়ে গ্রাহকদের অংশগ্রহণে উল্লাস ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের ভেতরে বিশ্বকাপ ফুটবলের উৎসবমুখর আয়োজন। ছোট একটি গোলপোস্টের সামনে রাখা আছে ফুটবল। কর্মকর্তারা কেউ ব্রাজিল, কেউ আর্জেন্টিনা, কেউবা অন্য প্রিয় দলের জার্সি পরে অফিস করছেন। লেনদেন শেষে গ্রাহকেরা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার হিসেবে ফুটবল, পতাকা ও বাঁশি জিতে নিচ্ছেন। গ্রাহকদের ইচ্ছা অনুযায়ী গালে এঁকে দেওয়া হচ্ছে পছন্দের দলের দেশের পতাকা। কর্মসূচি ঘিরে গ্রাহকদের আপ্যায়নেও ছিল ভিন্নতা ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। বাদাম, শিমের বীজ, ছোলা, আইসক্রিম, জামের ভর্তা ও চালতার আচার দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে গ্রাহকদের। ব্যাংক থেকে সেবা নিয়ে সবাই ফিরছেন হাসিমুখে।

লেনদেনের সঙ্গে এ ধরনের আয়োজনের কারণ জানতে কথা হয় ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক রকিবুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি ব্যাংককে মানুষের জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করতে। ফুটবল সেই সুযোগ তৈরি করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বকাপের আবেগ স্থানীয় অর্থনীতিকে ছুঁয়েছে, আর ব্যাংকিং সেবা পেয়েছে এক নতুন অভিজ্ঞতা।’

ব্যাংকের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাজন খান বলেন, ‘আজ আমরা দেখেছি,Ñগ্রাহক শুধু সেবা নিতে আসেন না, তাঁরা অভিজ্ঞতাও খোঁজেন।’

কুইজ বিজয়ী গ্রাহকের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন দুই ব্যাংক কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভৈরব পৌরসভার বঙ্গবন্ধু শরণি সড়কে এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখায়
ছবি: প্রথম আলো

কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় কয়েকজন ক্রীড়া সংগঠক ব্যাংকে আসেন। তাঁরা এই আয়োজন দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভৈরব উপজেলা ক্রীড়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান বলেন, ‘এখানে এসে ব্যাংকিং অর্থনীতির সঙ্গে খেলার সুন্দর যোগাযোগের ইতিবাচক প্রতিফলন দেখলাম।’

ভৈরব ফুটবল একাডেমির সংগঠক আমিনুল ইসলাম বলেন, চাইলে জীবনকে নানাভাবে উদ্‌যাপন করা যায়। এনআরবিসি ব্যাংক বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন করে সেটি দেখিয়ে দিল।

এনআরবিসি ব্যাংকের ভৈরব শাখার ক্যাশ ইনচার্জ ফজলে রাব্বি বলেন, গ্রাহক কেবল সংখ্যা নয়, একধরনের প্রতীকী অর্থনীতি, যেখানে বৈশ্বিক খেলার পরিসংখ্যান স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।