তৃতীয় জানাজার পর মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন-আল-রশীদ
তৃতীয় জানাজার পর আজ শনিবার দুপুরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য হারুন-আল-রশীদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শেরপুর কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
জোহরের নামাজের পর জেলা শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।
গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হারুন-আল-রশীদ মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েক দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বিকেলে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা হয়। আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তৃতীয় জানাজার পর তাঁকে দাফন করা হয়।
তৃতীয় জানাজায় বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নান, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ আব্দুর রউফ, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাঈদুল হক, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা জানান, হারুন-আল-রশীদ রাজনৈতিক জীবনে সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সব দল ও ধর্মের মানুষের কাছে তিনি সম্মানিত ছিলেন।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, হারুন-আল-রশীদ ১৯৭৯ সালে প্রথমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।