অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, তাঁরা পাঁচ বছর ধরে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়ন করছেন। ২০২১ সালের ৩ মে বর্তমান বিভাগীয় প্রধান মিম্মা তাবাস্‌সুম বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের নম্বর টেম্পারিং, মানসিক হেনস্তাসহ নানাভাবে অপদস্থ করে আসছেন।

অভিযোগগুলো হলো ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে শিক্ষার্থীদের নম্বর টেম্পারিং করা, সম্মিলিতভাবে পূর্বঘোষণা দিয়ে পুরো ব্যাচের নম্বর টেম্পারিং করা, বিভাগের অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা, ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড় বলে শিক্ষার্থীদের হেয় করা এবং কথায় কথায় নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করা, শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটূক্তি করা, ল্যাব রুমে ক্লাস করার সময় কটু কথা বলে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ করা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা, উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে শিক্ষার্থীদের হেয়প্রতিপন্ন করা, ‘তোমাদের ব্যাচ থেকে কীভাবে টিচার হয়, আমি তা দেখে নেব’ বলে হুমকি দেওয়া, কর্মচারীদের ভুল তথ্যে কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ‘অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওই শিক্ষক এবং তাঁর স্বামী (একই বিভাগের শিক্ষক) ও অন্যান্য শিক্ষকেরা অভিযোগকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে ফোন দিয়ে এই অভিযোগ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। তাঁরা একই বিভাগের জুনিয়র ব্যাচের ছাত্রদের দিয়ে তাঁদের (অভিযোগকারীদের) আমাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে আমাদের অভিযোগগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ দিয়েছি দুই সপ্তাহ আগে। অদ্যাবধি ডিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যা খুবই দুঃখজনক। আবার অভিযুক্ত শিক্ষকও তাঁর একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে পারছি না।

আমাদের স্নাতকোত্তর সেমিস্টারের ল্যাব পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে, আমাদের আরেকটি সেমিস্টার বাকি আছে। একটা সুষ্ঠু তদন্ত না করে প্রশাসনের এই দীর্ঘসূত্রতা আমাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত করে দিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগামী সোমবার (৩১ অক্টোবর) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান মিম্মা তাবাস্‌সুমকে গতকাল বুধবার রাতে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। এর আগে অভিযোগ ওঠার পর পর তাঁর মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে বক্তব্য জানতে চেয়ে একটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। সেটিরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মুহাম্মদ হানিফ মুরাদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের এ বিষয়কে প্রধান আলোচ্যসূচি রেখে বিভাগীয় প্রধান মিম্মা তাবাস্‌সুমকে একাডেমিক কাউন্সিলে বৈঠক করার জন্য বলেছেন তিনি। বৈঠকের পর শিক্ষার্থীদের ডেকে কথা বলার জন্য তাঁকে বলা হয়েছে। কিন্তু বৈঠক করলেও শিক্ষার্থীদের ডাকেননি বিভাগীয় প্রধান। এ জন্য পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি প্রতিবেদন দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নেতার নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পক্ষের হওয়ায় অভিযোগটির তদন্ত হচ্ছে না। এ ঘটনায় নীরব থাকার নীতি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই সিন্ডিকেটের নানা অপতৎপরতার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিম্মি হয়ে আছে।