জি এম কাদের বলেন, সরকার বলছে, ৩১ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। আইএমএফ বলছে, রিজার্ভ রয়েছে ২২ বিলিয়ন ডলার। টাকা ও ডলার–সংকটে ভুগছে দেশ। এ সংকট থেকে রক্ষা পেতে সরকার নতুন করে টাকা ছাপছে। ব্যাংকে গেলে দেখবেন, শুধু নতুন টাকার লেনদেন।

বাংলাদেশ এখন অনিশ্চয়তার পথে হাঁটছে এবং যেকোনো সময় পা পিছলে যেতে পারে বলে দাবি করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশ এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ঝুঁকির কারণে কেউ এখানে বিনিয়োগ করতে চায় না। নতুন টাকা ছেপে কোনো লাভ হবে না। দেশের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

দেশ শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া হওয়ার পথে চলছে মন্তব্য করে জি এম কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল অথচ সেই চেতনা এখন চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশ চরম বৈষম্যে নিমজ্জিত। একদিকে দেশের মানুষ দুর্ভোগে আছে, অন্যদিকে সরকারি দলের লোকজন বিদেশে অর্থ পাচার করে বাড়ি বানাচ্ছে।

বর্তমানে দেশে গরিব মানুষ আরও গরিব হচ্ছে, আর সরকারের লোকজন বড়লোক হচ্ছে দাবি করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ দেশে দ্রব্যমূল্যের কথা বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিনই বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। এ নিয়ে সরকারে কোনো মাথাব্যথা নেই। মাটির ওপরে ও মাটির তলে উন্নয়ন হচ্ছে বলে প্রচার চালাচ্ছে। আর বলছে খেলা হবে। কিসের খেলা? দেশের মানুষ যখন কষ্টে, দেশ যখন ঝুঁকিতে তখন, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি আছে খেলা নিয়ে। তাঁরা দেশের মানুষের কথা ভাবছে না। এ দেশে ছয় কোটি শিক্ষিত বেকারের কথা কেউ ভাবছে না। কী হবে মাটির তলে আর ওপরের উন্নয়নে, যদি মানুষের মধ্যে শান্তি না থাকে?’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির নেতা এয়ার আহমেদ ওরফে সেলিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক ওরফে চুন্নু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম ফয়সাল চিশতী, যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহসান প্রমুখ।

পরে এয়ার আহমেদকে সভাপতি ও ওবায়দুল কবিরকে সাধারণ সম্পাদক করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করা হয়।