ফ্যামিলি কার্ড আমার বউও পাবে, কিন্তু টাকা পাবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বেলঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। মঙ্গলবার বিকেলেছবি : প্রথম আলো

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী, সাঁওতাল, ওঁরাও—সবাই পাবে। ফ্যামিলি কার্ড আমার বউও পাবে; কিন্তু আমার বউ টাকা পাবে না, কার্ডটা পাবে। ডিসি সাহেবের মিসেসও কার্ড পাবেন, কিন্তু সুবিধা পাবেন না, অর্থাৎ উপকারভোগী হবেন না। ওনার কার্ডের মধ্যে লেখা থাকবে, “আমার ওই মায়ের বা বোনের কার্ডের মধ্যে আপনি যে টাকাটি নিলেন না, এই টাকাটি যারা সমাজে পিছিয়ে পড়েছে, তাদের জন্য দান করেছেন, সে জন্য রাষ্ট্র কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে।”’

মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের বেলঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের ১৪টি অঞ্চলের প্রতিটি অঞ্চলে, ইনশা আল্লাহ, ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড। যার মাধ্যমে মা-বোনেরা তাদের পরিবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে, আমার মায়েরা যাতে তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারে, পড়াশোনা করাতে পারে, একটু ভালো খাবার কিনে দিতে পারে, সে জন্য সরকার আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, মেয়েদের শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বড় অবদান যে নারীর, তিনি হচ্ছেন মহীয়সী বেগম খালেদা জিয়া। মেয়েদের বিনা মূল্যে স্কুলে যাওয়া, বই পাওয়া—আজকে যে কাজ করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, এটার পেছনে রয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদান। বিএনপি হচ্ছে এমন একটি দল, যারা সব সময় মানুষের দুঃখদুর্দশা কষ্ট লাঘব করার জন্য মানুষের পাশে থাকতে চায়।

সারা দেশে খাল খননের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরের কাহারোলে আসবেন। কাহারোলে এসে উনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। কাজেই মনে রাখবেন, আপনারা খুবই ভাগ্যবান এক জেলার মানুষ, তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) নানিবাড়ি এখানে। তিনি বিরামপুরেও এসেছিলেন, কাহারোলে আসবেন। দিনাজপুর শহরে যাবেন ওই ১৬ তারিখে। ওই দিন হয়তো তিনি আপনাদের সঙ্গে আল্লাহ যদি রিজিক দেয় ইফতারও করবেন ইনশা আল্লাহ। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ডিসি সাহেবের কথাগুলো শুনতে হবে। অর্থাৎ ঝগড়াঝাঁটি করা যাবে না, মারামারি করা যাবে না। আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাংলাদেশে চালু হলো বলে মন্তব্য করেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এরপর আরও দুইটা ওয়ার্ডে হবে, চারটা ওয়ার্ডে হবে এবং আস্তে আস্তে প্রতিটা উপজেলার প্রতিটা ওয়ার্ডে প্রত্যেক নাগরিকের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কাজেই কোনো অবস্থাতেই আপনাদের মধ্যে কোনো ভুল–বোঝাবুঝির কারণ নেই। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কোনো পয়সা দিতে হয় না।’