রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি

সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন রুমিন ফারহানা। রোববার বিকেলে তোলাছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে এ চিঠি দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘উদ্ভূত ঘটনার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নিতে এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার আমরা এটি করেছি এবং এর অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়ার জেরে আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জুয়েল মিয়া নামে রুমিন ফারহানার এক অনুসারী জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে আক্রমণাত্মকভাবে বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও আঙুল উঁচিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করেন। তিনি আক্রমণাত্মকভাবে ইংরেজিতে ওয়ার্নিং দিয়ে বলতে থাকেন, ‘দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম, আই ওয়ার্নিং ইউ, আই উইল নট লিসেন টু দিজ। আপনি পারলে থামাই দেন, আজকে ভদ্রতা দেখাচ্ছি, নেক্সট টাইম কিন্তু এই ভদ্রতা করব না...।’ একপর্যায়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি উপস্থিত জনতাকে দেখিয়ে হুমকি দিতে থাকেন।

আরও পড়ুন

চিঠিতে আরও বলা হয়, তিনি জনগণকে খেপিয়ে তুলে ‘মব’ সৃষ্টি করেন এবং বলতে থাকেন, ‘আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, আমার এই মানুষ, এখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না।’ একপর্যায়ে তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম। ভবিষ্যতে শুনব না।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ অন্যরা মারমুখী আচরণ করেন। এতে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা ও কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং আগেও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে রুমিন ফারহানার এক সমর্থককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ছিলেন। কিন্তু আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি দৃঢ়ভাবে একটি দলকে জেতানোর জন্য চেষ্টা করতে থাকেন এবং এটি করতে গিয়ে অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী যাঁর জয়লাভের সম্ভাবনা আছে, তাঁকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন, তাহলে তো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকল না। শেখ হাসিনার মতো ’১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালে যেমন নির্বাচন হয়েছে, এখন তো মনে হচ্ছে সে রকম হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’