খুলনা জেলার বাসমালিক সংগঠনগুলো বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে প্রথম আলোর। তবে পরবর্তী সময়ে হয়রানির ভয়ে তাঁরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ওই নেতারা বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রাখার ব্যাপারে জেলা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে ওই দিন বাস বন্ধ রাখার ব্যাপারে ব্যাপক চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাধ্য হয়ে তাঁরা বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তাঁরা বাস বন্ধ রাখার পক্ষে নন।

আজ বুধবার দুপুরের দিকে খুলনা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি দেওয়া হয়েছে, তাতে সংগঠনটির প্রধান সময় নিয়ন্ত্রক হিসেবে একজনের স্বাক্ষর আছে। তবে স্বাক্ষরকারীর নাম বোঝা যাচ্ছে না। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ ওই সংগঠনের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমিতির কর্মকর্তা, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও বাসমালিকেরা। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্র, ইজিবাইক ও বিআরটিসির গাড়ি চলাচল করছে। ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রশাসন যদি সড়কে ওই অবৈধ যান চলাচল ও কাউন্টার বন্ধ না করে, তাহলে পরবর্তী দুই দিন ২১ ও ২২ অক্টোবর মালিক সমিতির সব রুটের গাড়ি বন্ধ থাকবে।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা মোটর বাস মালিক সমিতির সভাপতি গফফার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই মিটিংয়ের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ২১ ও ২২ অক্টোবর খুলনা থেকে চলাচলকারী সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাসমালিকেরা। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। কেন বন্ধ রাখা হচ্ছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিক যদি বাস চালাতে না চান, তাহলে শ্রমিকেরা কী করবেন? এর বাইরে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

খুলনা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান। তিনি খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, তিনি ঢাকায় আছেন, মিটিংয়ে ছিলেন না। তবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেই সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করার দাবিতে ওই দুই দিন খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি বাস চলাচল বন্ধ করার পক্ষে নয় বলে তাঁকে জানালে তিনি বলেন, ওই সংগঠন যদি চায়, তাহলে বাস চালাবে। তবে কোনো অঘটন ঘটলে এর দায়ভার কেউ নেবে না।

খুলনার বাসমালিক ও শ্রমিকসংগঠনগুলো সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ১৮টি রুটে দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ওই দুই দিন খুলনা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যাবে না ও প্রবেশও করবে না।