কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় অনুষদের ‘বিতর্কিত’ ডিন নিয়োগ বাতিল, দায়িত্বে নতুন উপাচার্য
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত সপ্তাহে ছয়টি অনুষদে ডিন নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এবার সেই নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন। সদ্য সাবেক উপাচার্য হায়দার আলীর নির্বাহী ক্ষমতায় দেওয়া ওই নিয়োগ বাতিলের পর বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী অনুষদগুলোর অন্তর্বর্তী দায়িত্বে থাকছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম নিজেই।
আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এরই মধ্যে পৃথক আরেকটি আদেশে আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক বেলাল উদ্দিনের ওপর অর্পণ করেছেন উপাচার্য।
আজ অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত না আসা পর্যন্ত ১১ ও ১৩ মে জারি করা ডিন নিয়োগসংক্রান্ত অফিস আদেশ দুটি রহিত থাকবে। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬–এর ধারা ২২ (৬) অনুযায়ী উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি ৫টি অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ১১ মে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ছয়টি অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ দিলে বিএনপিপন্থীসহ শিক্ষকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন করতেই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত না মেনে এই অন্তর্বর্তী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় কলা ও মানবিক অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন এম এম শরীফুল করীম ও আইন অনুষদের ডিন (বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য) মাসুদা কামাল এ নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত ও নিয়ম ব্যত্যয়কারী দাবি করে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে ওই সময় সদ্য সাবেক উপাচার্য হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দাবি করে যে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করা হয়নি। বর্তমান ডিনদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অর্ন্তবর্তী ব্যবস্থা হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য ছয়জনকে ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এসব ঘটনার পর ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীমকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উপাচার্য হিসেবে যোগদানের দুই কার্যদিবসের মাথায়ই পূর্ববর্তী প্রশাসনের সেই বিতর্কিত ডিন নিয়োগের আদেশ বাতিল করল শরীফুল করীমের নতুন প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নুরুল করিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সংকটকালে আইন অনুযায়ী উপাচার্য মহোদয় যেকোনো সময় অনুষদগুলোর ডিনের দায়িত্ব নিতে পারেন। এর আগেও এমন নজির রয়েছে। তবে এ দায়িত্ব তিনি দীর্ঘকাল রাখবেন না। ইতিমধ্যে আইন অনুষদে নতুন ডিন নিয়োগ করা হয়েছে। উপাচার্য মহোদয় সবকিছু বিবেচনা করে দ্রুতই বাকি অনুষদগুলোতেও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ডিন নিয়োগ সম্পন্ন করবেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক উপাচার্যের সময়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং নিয়ম না মেনে ছয়টি অনুষদে ডিন নিয়োগ করা হয়েছিল। আজ সেই নিয়োগের আদেশ রহিত করা হয়েছে। আইন অনুষদ নিয়ে কোনো সমস্যা না থাকায় বেলাল উদ্দিনকে সেই অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনবিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সব অনুষদে ডিন নিয়োগ দেওয়ার জন্য।’
প্রসঙ্গত, ৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১০৯তম সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদে ডিন নিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় নতুন ডিন নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আইনবিশেষজ্ঞের মতামত না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখার কথা হয়।