ঈদের ছুটি শেষেও বান্দরবানে পর্যটকদের ভিড় কমছে না
বান্দরবানে ঈদের পরদিন গত রোববার থেকেই পর্যটকেরা ভিড় করছেন। আজ মঙ্গলবার ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও পর্যটক আসা বন্ধ হয়নি। বরং গত দুই দিনের তুলনায় আজ পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদের ছুটির পর আজই সর্বাধিক পর্যটক এসেছেন পাহাড়, ঝিরি-ঝরনার এই পর্যটন শহরে। আজ অন্তত ১০ হাজার আবাসিক ও অনাবাসিক পর্যটক বান্দরবান ভ্রমণে এসেছেন বলে জানান তাঁরা।
পর্যটকেরা আসায় খুশি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট মালিকেরা। একই সঙ্গে পর্যটকবাহী গাড়িরও কদর বেড়েছে। সকাল থেকেই চাঁদের গাড়ি নামে পরিচিত ফোর হুইল গাড়িগুলো যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ছুটে গেছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে একনাগাড়ে আরও তিন দিন ছুটি থাকায় তখনো পর্যটকেরা আসবেন বলে জানান পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
আজ সকাল হতেই ঢাকা থেকে পর্যটকদের নিয়ে আসতে শুরু করে যাত্রীবাহী বাসগুলো। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণেরা দলে দলে ঘুরতে এসেছেন। দুপুরে ও বিকেলে ভাড়া বাস ও প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে মেঘলা, নীলাচল ও আশপাশে এলাকায় এসেছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা অনেকে কক্সবাজারের সমুদ্র দেখে বান্দরবানের পাহাড় ঘুরে চলে গেছেন। আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী জেলার উপজেলা থেকে দল বেঁধে কিছু সময় কাটানোর জন্য এসেছেন। চাঁদের গাড়ি স্টেশনগুলোতে সবচেয়ে বেশি সমাগম দেখা গেছে। তবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট গাড়িতে আসা পর্যটকেরা অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাঁরা থানচি, রুমা যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অকটেন পাচ্ছেন না।
চাঁদের গাড়ি স্টেশনের লাইনম্যান ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যটকের ভিড় বাড়ছে গতকাল সোমবার থেকে। গতকাল চার শতাধিক গাড়ি নিয়ে পর্যটকেরা নীলগিরি, চিম্বুক, থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি ও জেলা শহরের আশপাশে ঘুরেছেন। আজ সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত ৪৫০টি গাড়ি ছেড়েছে। বিকেল পর্যন্ত আরও কিছু বাড়তে পারে। মোটরসাইকেলে আসা তরুণেরা জেলা শহরে থাকেন না। তাঁরা সরাসরি রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদমের আরও ভেতরে ঘুরতে যান। এ রকম অন্তত ৫০০টি মোটরসাইকেলে ভ্রমণকারীরা দুর্গম এলাকায় গেছেন। তবে মোটরসাইকেলে আসা কিছু পর্যটক তেলের সংকটের কারণে জেলা শহর থেকে ফিরে গেছেন।
সিলেট থেকে ২৭ জন তরুণ মোটরসাইকেল নিয়ে থানচি যাওয়ার জন্য এসেছেন। তাঁদের একজন মোহাম্মদ রনি বলেন, তাঁদের প্রতিটি মোটরসাইকেলে মাত্র দুই লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। থানচি গিয়ে যদি তেল না পাওয়া যায় তাহলে বিপদে পড়তে হবে। এ জন্য তাঁরা যাবেন কি না, এ নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আজ জেলা শহর ও শহরতলির অধিকাংশ হোটেল-মোটেলে প্রায় শতভাগ পর্যটক রয়েছে। স্থানীয় চাঁদের গাড়ি, মোটরসাইকেল আরোহী, ভাড়া বাস ও প্রাইভেট গাড়িতে অনেক পর্যটক এসেছেন। হোটেলের বুকিং ও গাড়ির হিসাবে আজ প্রায় ১০ হাজার পর্যটক বান্দরবান ভ্রমণ করেছেন। এ সংখ্যা গত দুই দিনের চেয়ে বেশি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটনের দায়িত্ব) এস এম হাসান জানিয়েছেন, পর্যটকের আগমন বাড়ছে। জ্বালানি তেলের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তবে প্রকট নয়। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে সচেতন আছে। মনিটরিং জোরদার করে কোনো সমস্যা না হওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।