জুতাপেটার অভিযোগ ওঠা বিএনপি নেতা ছুরিকাহত, অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন সাজানো নাটক
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হারুনুর রশিদ (৫৫) নামের বিএনপির এক নেতা ছুরিকাহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রোয়াইড়–রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে তাঁকে পথরোধ করে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহত হারুনুর রশিদকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বাঁ হাতে লম্বা জখম ও মাথার নিচে আঘাতের চিহ্ন আছে। তিনি উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক (স্যাকমো) সুমন হোসেন বলেন, হারুনুর রশিদের বাঁ হাতে লম্বা জখম আছে। ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। মাথার নিচেও আঘাতের চিহ্ন আছে।
হারুনুর রশিদের অভিযোগ, রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তাঁর বড় ভাই দারাজ উদ্দিনসহ ছয় থেকে সাতজন তাঁকে পথরোধ করে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন তিনি।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ তাঁকে জুতাপেটা করেছিলেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলা তুলে নিতে হারুনুর রশিদ তাঁকে চাপ দিচ্ছিলেন এবং চাকরি খাওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন হামলা ও ছুরিকাঘাতের ‘সাজানো নাটক’ করে তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কমিটি নিয়ে আগের বিরোধ
থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে দুই পুরুষ ও দুই নারী সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। পরে সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য হারুনুর রশিদ চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক।
এ নিয়ে ২১ জুন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে হারুনুর রশিদ ও আজাদুর রহমানের মধ্যে বিরোধ হয়। একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ জুতা খুলে তাঁকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন আজাদুর রহমান। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় হারুনুর রশিদ, শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি।
এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।আরিফ ইফতেখার আহাম্মেদ, আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
এদিকে হারুনুর রশিদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহাম্মেদ। তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, আজ শুক্রবার সকালে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম থানায় এসে জানিয়েছেন, হারুনুর রশিদ মামলা করবেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।