ইউজিসির নির্দেশনায় প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুই থেকে দশ বছর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বীকৃত জার্নালে বা পেয়ার রিভিউতে প্রকাশনা থাকতে হবে। প্রকাশনাগুলোর মধ্যে কমপক্ষে একটি প্রকাশনা ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বা ইনডেক্স জার্নালে প্রকাশিত হতে হবে।

এসব নির্দেশনার বিরোধিতা করে শিক্ষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কোথাও ইনডেক্স জার্নাল নেই। বিদেশের জার্নালে প্রকাশ করতে হলে তা অনেক ব্যয়বহুল এবং তা পড়তেও অনেক টাকা খরচ করতে হয়। যা একজন শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়।

মানববন্ধনে শিক্ষকেরা বলেন, ইউজিসি যে নির্দেশিকা দিয়েছিল, তাঁরা মনে করেছিলেন, এটা শিক্ষকবান্ধব হবে। বাস্তবে এতটা ভুলে ভরা নির্দেশিকা বা অসংগতিপূর্ণ নির্দেশিকা কখনোই শিক্ষকবান্ধব হতে পারে না। এই নির্দেশিকা অবশ্যই সংশোধন করতে হবে। তা ছাড়া এটা একটা নির্দেশিকা, এটা কোনো আদেশ নয়। নির্দেশিকা পালন করতে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য নয়। অথচ ওই নির্দেশিকা পালন না করলে ইউজিসি নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পদের অনুমোদন দেবে না। এটা কোনো যৌক্তিক বিষয় নয়। শিক্ষকদের মানের উন্নয়ন না হলে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মানের উন্নয়ন হবে না। ওই নির্দেশিকা যত দিন সংশোধন না করা হবে, তত দিন তাঁদের আন্দোলন চলবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মোহাম্মাদ ফায়েকুজ্জামান বলেন, ‘ক্লাসে না যেতে পেরে আমাদেরও কষ্ট হচ্ছে। আমরা আজ ১২ দিন ধরে ইউজিসির নির্দেশিকা যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়ে আসছি। এতে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের দাবি, ওই নির্দেশিকা সংশোধন করা হোক।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, এই নির্দেশিকা হচ্ছে শিক্ষকদের গলা চেপে ধরা, এটা সংশোধন করা তাঁদের প্রাণের দাবি। হাই–টেক পার্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্বল্প আয়তনের আমাদের শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। টিএসসির জায়গা দিতে পারছি না, তাহলে আমরা ক্যাম্পাসে কীভাবে একটা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে জায়গা দিতে পারি। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক মানের ম্যুরাল হবে। এর পাশে হাই–টেক পার্ক হলে ম্যুরালের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। আমরা হাই–টেক পার্ক হোক সেটা চাই, তবে নতুন জায়গা অধিগ্রহণ করে করা হোক।’

দাবি বাস্তবায়নে সাত কার্যদিবসের সময় বেঁধে দেওয়ার কথা জানিয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ‘আগামীকাল (সোমবার) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। তবে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চলবে, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় ছাড়া প্রশাসনিক কোনো কাজে শিক্ষকেরা অংশ নেবেন না।’

ইউজিসির নির্দেশনার সংশোধন ও ক্যাম্পাসের ভেতরে হাই–টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের বিরোধিতা করে ৯ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।