গভীর রাতে কুষ্টিয়া পৌরসভা ভবনে দুর্বৃত্তদের হানা, মেয়রের কার্যালয় তছনছ

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়রের কার্যালয় তছনছের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের একাধিক দল। আজ রোববার সকালেছবি: প্রথম আলো

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার আলীর কার্যালয়ে হানা দিয়ে সবকিছু তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ‘আক্রোশমূলক ও পূর্বপরিকল্পিত’ বলছেন মেয়র।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন, মেয়রের কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সংরক্ষণের দুটি ডিডিআর যন্ত্র ও একটি ক্যামেরা চুরি গেছে। এ ছাড়া কার্যালয়সহ তিনটি কক্ষের একাধিক আলমারি ভাঙা ও একটি সিন্দুক খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বেশ কিছু ফাইল ও কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কুষ্টিয়া পৌরসভা মেয়রের কার্যালয়ের তিনটি কক্ষের একাধিক আলমারি ভাঙা ও একটি সিন্দুক খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে
ছবি: প্রথম আলো

মেয়রের কার্যালয়ের অফিস সহকারী প্রণব বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল আটটার দিকে তিনি জানতে পারেন মেয়রের কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভাঙা। দ্রুত তিনি পৌরসভায় ছুটে আসেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আসেন। তাঁদের সঙ্গে করে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান মেয়রের কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরা নিচের দিকে বাঁকা করে রাখা। পুরো পৌরসভা কার্যালয়ের যতগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, তার ভিডিও সংরক্ষণের ডিডিআরের দুটি যন্ত্রেও খোয়া গেছে।

প্রণব বিশ্বাস বলেন, মেয়রের টেবিলের ড্রয়ার ও কাগজপত্র এলোমেলো এবং মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো। মেয়র যে চেয়ারে বসেন, সেই চেয়ারটা উল্টো করে রাখা। মেয়রের কক্ষের সংযুক্ত আরেকটি কক্ষ আছে। ওই কক্ষও তছনছ করা হয়েছে। সেখানে একটি আলমারির দরজা ভাঙা। তার পাশে একটি সিন্দুক রয়েছে, সেটাও চাবি দিয়ে খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভেতরে থাকা একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা পাওয়া যাচ্ছে না।
কার্যালয়ের নিচতলার পেছনের দিকে গ্রিল ভেঙে দুর্বৃত্তরা ওপরে উঠেছে বলে মনে করছেন পৌরসভার কর্মকর্তারা।

মেয়রের কার্যালয়ের একটি সিন্দুক চাবি দিয়ে খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে
ছবি: প্রথম আলো

আজ বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। এ ঘটনার সঙ্গে পৌরসভায় কর্মরত কেউ হয় তো জড়িত থাকতে পারে। এটা একটি আক্রোশমূলক ঘটনা। যেই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আনোয়ার আলী বলেন, ‘আমাকে হয় তো পৌরসভা থেকে সরানোর জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। একটু পরেই সংবাদ সম্মেলনে আরও কথা বলব।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।