ঝালকাঠিতে পুলিশের মামলায় বিএনপির ১৪ নেতা-কর্মী কারাগারে
ঝালকাঠিতে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় হওয়া মামলায় ১৪ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝালকাঠি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পারভেজ শাহারিয়ার আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির।
মামলার আসামিদের মধ্য আছেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ আহম্মেদ, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হাসান, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সরদার সাফায়েত হোসেন, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি বাচ্চু হাসান খান।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঝালকাঠিতে শহরের সাধনার মোড় ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় আমতলার মোড় এলাকায় বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ওই রাতে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ মোদক বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে বিএনপির ৩৮ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১৫০ জনকে। এ ঘটনার পর আটক ১৬ নেতা-কর্মীকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন।
জামিনের মেয়াদ শেষে আজ মঙ্গলবার ২১ জন নেতা-কর্মী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন। আদালতের বিচারক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন ও সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেনসহ সাতজনের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকি ১৪ জন নেতা-কর্মীকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলায় বাদী দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। অন্যদিকে, বিএনপির দাবি, পুলিশ বেধড়ক লাঠিপেটা করলে শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
বিএনপির নেতারা আজ জামিন নিতে এলে ঝালকাঠির আদালতপাড়ায় নেতা-কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।