পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ আসতে পারে: অর্থ উপদেষ্টা
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতিতে জনজীবনে দুর্ভোগ ও দারিদ্র্যের সংখ্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সভায় তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন। এতে ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকেরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, পতিত সরকারের রেখে যাওয়া বিশাল মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিতে পারে। জনজীবনে দুর্ভোগ আসতে পারে, অতি দরিদ্রের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে, নিম্নবিত্ত আরও দরিদ্র হতে পারে। তিনি বলেন, ‘একরকম বৈরী পরিবেশেও বর্তমান সরকার কৃষক ও সাধারণ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে জ্বালানি তেলের এবং বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করেনি বা বাড়ানো হয়নি। এত বড় শাস্তি আমরা পাচ্ছি শুধু জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ বলে।’
যেকোনো সংকট বর্তমান সরকারের কাছে নতুন কিছু নয় মন্তব্য করে রাশেদ আল মাহমুদ জানান, অতীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত একটি অর্থনীতিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেওয়া হয়েছিল। তখন বৈদেশিক সহযোগিতা ও জনশক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এ রকম সংকটের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক প্রতিরক্ষামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই সরকার বাগাড়ম্বরে, বয়ানে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বাস করে না। এ সরকার সবাইকে নিয়ে সম্প্রীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চায়।
নির্বাচনে দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তা জনরায়ের মাধ্যমে জাতীয় এজেন্ডায় রূপান্তরিত হয়েছে। সেই ইশতেহারের পাঁচটি ফাউন্ডেশন ছিল—প্রথমত রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুত্থান; দ্বিতীয়ত আর্থসামাজিক উন্নয়ন; তৃতীয়ত রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি; চতুর্থত ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুত্থান, সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং পঞ্চমত ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়ার মাধ্যমে পরিমার্জিত সমাজ নির্মাণ।
রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, ‘কখনো কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমাদের ইশতেহারে বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি যে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন হবে। তারই অংশ হিসেবে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এই ধরনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, প্রতিটি মানুষের অধিকার থাকার কথা, কিন্তু কৃষক, দুগ্ধজাত উৎপাদনকারী খামারিদের ও মৎসজীবীদের কখনো সম্মান করা হয়নি ও অধিকার দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশে এই প্রথম এবং বলা যায় উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রথম সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছি। সর্বজনীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কার্ডের ক্ষেত্রেও সর্বজনীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা। অনুষ্ঠানে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী জেলার কয়েকজন সংসদ সদস্য, জেলাগুলোর প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসকগণ উপস্থিত ছিলেন।