চাঁদপুরে বাসস্টপেজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১৩, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

চাঁদপুরে বাসস্টপেজকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন বাসশ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবারছবি: প্রথম আলো

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল বাসস্টপেজকে কেন্দ্র করে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন বাসশ্রমিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাসের জন্য হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখালে বাসস্টপের দাবিতে ১৮ মে থেকে ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধসহ আন্দোলন শুরু করেন। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেদিন অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। তবে গতকাল বুধবার দুপুরের পর একই দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী আবারও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন।

গতকাল সন্ধ্যার পর বাসের স্টাফদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এ সময় পাঁচটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বাসশ্রমিক ওমর ফারুক বলেন, গতকাল দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত বলাখাল বাজার এলাকায় বাসস্টপকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের অনুরোধে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাসগুলো বলাখাল জেএন স্কুল অ্যান্ড কারিগরি কলেজ মাঠে আটক রেখে অন্য সব যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। সন্ধ্যার পর বাসশ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আইদি পরিবহনের তিনটি ও বোগদাদ পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়। এরপর সেখানে প্রায় ৭০টি বাস আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার পর বাসশ্রমিকেরা বিচার না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।

জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল মিজি বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছি। এরপরও আমাদের বাসে হামলা-ভাঙচুর করা হয়। এতে আমাদের ১৩ জন বাসশ্রমিক আহত হন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি।’