মেঘনা নদী ভাঙন রোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ, পাউবো ঘেরাও, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
মেঘনা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা মিছিল নিয়ে ভোলা শহরের যুগীরঘোলে অবস্থিত পাউবো কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে কার্যালয় ঘেরাও করলে ভোলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ যুগীরঘোল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পাউবোর প্রধান ফটক ঠেলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই মিনিট ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্ষোভকারী এ কে এম নুর হোসেন, মো. মুনসুর, আবদুল মোতালেব ও আমজাদ বলেন, মেঘনা নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে চলতি বর্ষাতেই শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। হুমকির মুখে আছে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধও। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা ভাঙনে মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে। এলাকার অধিকাংশ মানুষ গরিব ও হতদরিদ্র। আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। তাই তাঁরা স্থায়ী সমাধান হিসেবে দ্রুত সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের দাবি জানাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, যখনই তাঁরা সিসি ব্লকের দাবিতে আন্দোলনে নামেন, তখনই পাউবো আশ্বাস দিয়ে কিছু জিওব্যাগ ফেলে। কিন্তু তা কোনো কাজে আসে না। সম্প্রতি আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ ও পাউবো ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন এবং দ্রুত সিসি ব্লক স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের পর পাউবোর কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা এক মাসের আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন।
ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার বলেন, সিসি ব্লকের দাবিতে স্থানীয় লোকজন আন্দোলন করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ভোলা-১ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, ‘শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের নদী–তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের জন্য ৬৮৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করছি, শিগগিরই প্রকল্পটি অনুমোদন হবে এবং কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের ভিটেমাটি হারিয়ে যাচ্ছে। সে বিবেচনায় তাদের আন্দোলন যৌক্তিক।’