শহিদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ভিশন টোয়েন্টি থার্টি ঘোষণার মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী চলমান আন্দোলনে যাঁরাই শরিক আছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়ে তারেক রহমান জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলেছেন। সারা দেশে এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের মাধ্যমে তৃণমূলের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিএনপির অঙ্গীকারকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘নিশিরাতের ভোটের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর গত সপ্তাহে দেওয়া দুটি বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, “বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে পাঠানো হবে।” আর বলেছেন, “বিএনপির পরিণতি হেফাজতের মতো হবে।” এটা একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখের ভাষা হতে পারে না।’

মিডিয়া সেলের সদস্য ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ হোসেন ও গাজী আবদুল বারী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক হারুন অর রশিদ খান, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব অধ্যাপক শেখ মো. আখতার উজ জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, মহানগর বিজেপির সভাপতি লতিফুর রহমান, প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন, ড্যাব নেতা আকরামুজ্জামান প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম।

বক্তারা বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে পরিকল্পিতভাবে বিভক্তি তৈরি করেছে। সব দ্বিধাবিভক্তি দূর করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে না পারলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে সফলতা অর্জন করা যাবে না। জাতীয় ঐক্য গড়তে বিএনপিকেই ভূমিকা পালন করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত না হলে জাতীয় সরকার বা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ কোনোটাই বাস্তবায়ন হবে না। বক্তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংবিধান সংশোধন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণকারী বিভিন্ন কালাকানুন বাতিলের দাবি জানান।

সভায় মিডিয়া সেলের পক্ষে অধ্যাপক মোরশেদ খান, আতিকুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার ও আলী মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এতে আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।