গুরুতর আহত ফারহানা, তার মা সাথী আক্তার (২২) ও বাবা ফয়সাল আহমেদকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। বেলা দুইটার দিকে ফারহানার মা সাথী মারা যান। ছোট ফারহানা তখন অচেতন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় চিকিৎসক-নার্সরা ফারহানাকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু বিকেল চারটার দিকে তার শ্বাসপ্রশ্বাস থেমে যায়।

এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে। দুর্ঘটনায় আহত ফারহানার বাবা ফয়সালের অবস্থাও গুরুতর। তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স প্রভাতী বড়াল বলছিলেন, ‘ফারহানাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল খুবই গুরুতর অবস্থায়। দ্রুত তার চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল। সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছিল ছোট বাচ্চাটাকে জাগিয়ে তুলতে। কিন্তু কিছুতেই তার সাড়া মিলছিল না। এরপর...’

ফারহানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ওয়ার্ডমাস্টার মশিউর রহমান ফেরদৌস। তিনি বলেন, বিকেল চারটার দিকে ফারহানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে মারা যান ফারহানার মা সাথী আক্তার।

দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির পেছনের অটোরিকশার এক যাত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমি আর আমার ছেলে বাকেরগঞ্জে যাচ্ছিলাম। আকস্মিক সামনে বিকট শব্দ শুনে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। মুহূর্তে সামনের বাসটি থেমে যায়। পরে আবার পেছন দিকে আসতে শুরু করে। এতে আমাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। বাসটি পেছনের দিকে আসতে থাকলে আমরা অটোরিকশার চালককে দ্রুত পেছনে যেতে বলি। এরপর আমরা নেমে দেখি, বাসের সামনে একটি অটোরিকশা দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে। দৌড়ে বাসের সামনে গিয়ে দেখি, কয়েকজন যাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। কয়েকজন নড়াচড়া করছেন না। আমরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে একজন নারী ও তাঁর কোলে একটি ছোট বাচ্চা দেখি। বাচ্চাটির তখনো শ্বাসপ্রশ্বাস চলছিল। বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে আগে হাসপাতালে পাঠাই। পরে আরও দুজনকে উদ্ধার করি, তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক ছিল।’

ফারহানার বড় খালু শাহাদাত হোসেন বলেন, ‌‘কত আনন্দ নিয়ে ঢাকা থেকে আজ সকালে স্ত্রী-সন্তান এবং আরেক শ্যালিকা তানজিলা আক্তার ও পরিবারকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলাম। কত আনন্দ হবে ছোট শ্যালিকার বিয়েতে। কীভাবে যে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের কান্নারও শক্তি নেই। পুরো পরিবারে এখন শোক-কান্না আর আহাজারি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন