পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবকের নাম মঞ্জুরুল হায়দার ওরফে জনি (৩৫)। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় হায়দার ফার্মেসি নামের একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। মামলা হলেও গতকাল বিকেল পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনা তদন্তে হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ তানজিনা হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক শহীদুল আহমেদ ওরফে নয়ন, চিকিৎসক ইকরাম বিন ফারুক ও নার্সিং সুপারভাইজার আয়েশা আক্তার। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার নারীর ভগ্নিপতি প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে তাঁর শ্যালিকাকে (২৪) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তাঁকে রাখা হয় ১ নম্বর কেবিনে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক ব্যক্তি চিকিৎসকের পোশাক পরে ওই কেবিনে আসেন। তিনি এসেই কেবিনের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর পরীক্ষা করার নামে তাঁর শ্যালিকার শ্লীলতাহানি করেন। একপর্যায়ে তাঁর শ্যালিকা চিৎকার দিলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান।

ভগ্নিপতির অভিযোগ, এ ঘটনায় হাসপাতালের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সহযোগিতা ছিল বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন। ঘটনার পর তাঁরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে তারা বলেছে, তিন দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর শ্যালিকার অবস্থার অবনতি ঘটায় তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোস্তাক আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাঁরা নিজেরাই স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেছেন। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলার সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নারী রোগীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত মঞ্জুরুল হায়দারের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করেছে। অভিযুক্ত মঞ্জুরুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন