বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে, প্রশাসনিক পদ থেকে ৭২ শিক্ষকের পদত্যাগ

শিক্ষকদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউনে অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার দুপুরেছবি : প্রথম আলো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অন্তত ৭২ জন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতির দাবিতে চলমান কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চলাকালে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা এই ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে আজ মঙ্গলবার এক সভায় শিক্ষকেরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা উপাচার্যের অপসারণও চেয়েছেন।

আজ দুপুরে বতর্মান পরিস্থিতি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা ক্যাম্পাসে সভা করেন। তাঁরা চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ফিরবেন না।

সভায় উপস্থিত অন্তত চারজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে ইচ্ছা করেই টালবাহানা করছেন। তাই তাঁকে অপরসারণ করারও দাবি জানানো হয়।

এদিকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পদে থাকা অন্তত ৭২ জন শিক্ষক তাঁদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর ও ছয়জন সহকারী প্রক্টর, সব হলের হাউস টিউটর ও সহকারী হাউস টিউটর, ছাত্র উপদেষ্টারা, পিএসসি, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কেন্দ্র, আইকিউএসি, রিসার্স সেলের পরিচালকেরা, দুজন প্রভোস্ট, ২৫টি বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ছয়জন ডিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইউম বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক শিক্ষক ছুটিতে থাকায় এখনো পদত্যাগপত্রে সই করতে পারেননি। আশা করি আগামী দু–এক দিনের মধ্যে তাঁরাও বরিশালে ফিরে এসে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করবেন।’

৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে গতকাল সোমবার থেকে শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটউন কর্মসূচি দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রমে অচলাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারও তা অব্যাহত থাকে। কার্যক্রমে বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সবগুলো দপ্তরে তালা ঝুলছে।  

২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়।
শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষকদের দাবি ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে পদোন্নতি–সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চলবে বলে সমঝোতা হয়েছিল। সেই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়ে চলমান সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। এরপর শিক্ষকেরা পাঁচ দিনের আলটিমেটাম দিয়ে শুধু পাঠদানে ফিরেছিলেন।

আরও পড়ুন
আমি  শিক্ষকদের বলব, আপনারা নিজেরা কর্মবিরতি করতে পারেন, অন্যের কাজ বাধাগ্রস্ত করার কোনো যুক্তি নেই। এটা করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড।
তৌফিক আলম, উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকদের অভিযোগ, গত শনিবার ৯৪তম সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সংকট সমাধানের চেষ্টা না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন। এ ছাড়া অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক দাবি এখনো মেনে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে আমরা ক্লাসে ফিরব না।’

উপাচার্য তৌফিক আলম শিক্ষকদের এ কর্মসূচিকে আইনবিরোধী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘আমি  শিক্ষকদের বলব, আপনারা নিজেরা কর্মবিরতি করতে পারেন, অন্যের কাজ বাধাগ্রস্ত করার কোনো যুক্তি নেই। এটা করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড। আপনারা এ ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন, অন্যথায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’