সীতাকুণ্ডে গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে অগ্নিকাণ্ড, মালিকসহ দগ্ধ ২
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌধুরী মার্কেট এলাকায় মেসার্স এমটি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।
ওই গুদামে দুই শতাধিক সিলিন্ডার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এগুলো জাহাজভাঙা কারখানা থেকে এনে এখানে রাখা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে অনেকগুলো সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায় এবং ভেতরে থাকা গুদামটির মালিক মো. আবু তাহের ও তাঁর এক কর্মচারী অগ্নিদগ্ধ হন। পরে তাঁদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। দগ্ধ আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁর কর্মচারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
যে ভবনের নিচতলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, সে ভবনের দোতলায় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যথাসময়ে আগুন নেভাতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে।
দগ্ধ আবু তাহেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তাঁর কর্মচারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন বন্ধ করে দিয়ে চট্টগ্রামমুখী লেনে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি থেকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর পানি ছিটাচ্ছিলেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের কিছু সদস্য আগুন নিভিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো গুদাম থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, গুদামের বাইরে থেকে বন্ধ করে এক কর্মচারীকে নিয়ে ভেতরে কাজ করছিলেন গুদামমালিক আবু তাহের।
পুলিশের ধারণা, জাহাজভাঙা কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারে জমে থাকা অবশিষ্ট গ্যাস বের করে নিয়ে একটি সিলিন্ডার ভরার কাজ করছিলেন আবু তাহের। ঘর বন্ধ থাকায় ভেতরে গ্যাস জমেছিল। এ সময় কোনোভাবে আগুন ধরে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী জমির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ভেতরে কী হয়েছিল, তা তাঁরা প্রথমে জানতে পারেননি। কিন্তু ভেতর থেকে একটা চিৎকার ভেসে আসছিল। পরে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পান, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় দগ্ধ গুদামমালিক আবু তাহের ও তাঁর এক কর্মী বের হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবু তাহের জাহাজভাঙা কারখানায় জাহাজ কাটার জন্য সিলিন্ডারভর্তি গ্যাস সরবরাহ করতেন। গ্যাসের সিলিন্ডার খালি হয়ে গেলে সেগুলো এনে গুদামে রাখতেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতেন। তবে ভেতরে তাঁরা গ্যাস সিলিন্ডারে থাকা অবশিষ্ট গ্যাস বের করে সিলিন্ডারে মজুত করতেন, এমন তথ্য আগে জানতেন না তাঁরা।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল সোয়া চারটার দিকে তাঁরা গুদামে আগুন লাগার খবর পান। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থলে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলোর ওপরের অংশ আগুন জ্বলতে দেখেন এবং গুদামটিতে ওয়্যারিং করা তারগুলো তখনো জ্বলছিল। তবে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো তার কাছে খালি মনে হয়েছে। খালি সিলিন্ডারে হালকা পরিমাণ গ্যাস থাকে। আগুন কীভাবে লেগেছে, তা তাঁরা বলতে পারছেন না। ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক স্পার্কিংয়ের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক সোহেল আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, গুদামটিতে দুই শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। মূলত খালি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে গ্যাস বের করে একটি নতুন সিলিন্ডার ভর্তির কাজ করছিলেন আবু তাহের। তখন সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।