নাটোরে লাশ উদ্ধারে গিয়ে এলাকাবাসীর হামলায় দুই এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত

পুলিশের পিকআপের কাচ ভাঙচুর করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে নাটোরের সিংড়ার থেলকুড় গ্রামেছবি: প্রথম আলো

নাটোরের সিংড়ায় দুর্ঘটনায় নিহত তরুণের লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হামলায় পুলিশের দুই এসআই ও একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপের কাচ ভাঙচুর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সিংড়ার থেলকুড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেজাম ইসলাম, কালীগঞ্জ ফাঁড়ির এসআই বিপ্লব কুমার রায় ও কনস্টেবল আশরাফুল ইসলাম।

আহতদের মধ্যে কনস্টেবল আশরাফুল ইসলামকে বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার একটি বেসরকরি হাসপাতালে এবং বাকি দুইজনকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সিংড়া থানা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিংড়ার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের থেলকুড় গ্রামের সিয়াম আলী (১৯) শর্ষে মাড়াই করার একটি গাড়ি নিয়ে রাস্তা থেকে মাঠে নামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় গাড়িটি উল্টে তিনি গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়ার নন্দীগ্রামের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর স্বজনেরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাতে সিংড়া থানার পুলিশ একটি পিকআপ নিয়ে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে যায়। পুলিশ লাশ থানায় নিয়ে যেতে চায় এবং স্বজনদের হাসপাতালের মৃত্যুসনদ নিয়ে থানায় গিয়ে লাশ দাফনের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেয়। স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন এবং পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে কিছু লোক পুলিশের ওপর চড়াও হন। তাঁরা তিন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন এবং পিকআপের কাচ ভাঙচুর করেন। পরে সিংড়া থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ব ম আব্দুন নূর বলেন, রাতে একটি মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ থেলকুড় গ্রামে যায়। সেখানে লাশ উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং পুলিশের গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।