নালিতাবাড়ী বিএনপি
‘অতিথি’ নেতাদের কথায় চলতে গিয়ে দলে বিভক্তি
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, উপজেলা বিএনপির এই বিভক্তি দুজন ‘অতিথি’ নেতাকে কেন্দ্র করে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির অন্তর্কোন্দল বাড়ছে। সম্প্রতি একটি হামলার ঘটনা ও পৃথক কিছু কর্মসূচি পালনের পর দলটির বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি আরও বাড়ছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, উপজেলা বিএনপির এই বিভক্তি দুজন ‘অতিথি’ নেতাকে কেন্দ্র করে, যাঁদের একজনের বাড়িও এ উপজেলায় নয়।
উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ জাহেদ আলী স্থানীয় বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে মারা যাওয়ার পর নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিএনপিতে মতবিরোধ শুরু হয়। কিন্তু গত ১১ বছরে দলে বড় ধরনের বিভক্তি চোখে পড়েনি। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির একটি অংশ জাহেদ আলী চৌধুরীর স্ত্রী নকলা উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন এবং অপর অংশ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সদস্য মো. ইলিয়াস খানের নেতৃত্বে চলছে।
১৮ বছর পর গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন কর্মীর অতর্কিত হামলা কমিটি গঠন স্থগিত করা হয়। ওই সময় ইলিয়াস খানের সমর্থনে সভাপতি পদে বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন ও শহর বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন।
অপরদিকে ফরিদা ইয়াসমিনের সমর্থনে সভাপতি পদে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া প্রার্থী ছিলেন। এ ছাড়া শহর বিএনপির সভাপতি পদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক পদে শহর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম প্রার্থী ছিলেন। এরপর নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি পাঁচ সদস্যের একটি দল গঠন করে দেন। এ কমিটি একাধিকবার সভা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।
ফরিদা ইয়াসমিন সমর্থিত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের নেতা জাহেদ আলী চৌধুরী আদর্শ নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আমরা সংঘবদ্ধ রয়েছি।’
ইলিয়াস খান সমর্থিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপি নেতা ইলিয়াস খান দলের হাল ধরেছেন। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সংঘবদ্ধ আছি।’
শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, কমিটিকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপিতে বিভক্তি রয়েছে। আশা করা যায়, সবাইকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে দিলে তখন আর বিভক্তি থাকবে না।