আক্রান্তদের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরা এখন ঝুঁকিতে

করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স
করোনাভাইরাস। ছবি: রয়টার্স

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গতকাল রোববার পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৩৫ জনের। এর মধ্যে ১৯ জনই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী। এর মধ্যে আবার চিকিৎসক আটজন। আজ সোমবার আরও ৩৭ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার বেশির ভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্য।

আজ মুঠোফোনে কথা হয় বেশ কয়েকজন আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, ১০ দিনের ব্যবধানে কয়েক শ রোগী তাঁদের কাছে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যান্য কারণে সংস্পর্শে এসেছেন আরও শতাধিক মানুষ। এখন তাঁদের দুশ্চিন্তা ওই মানুষদের নিয়ে। বিশেষ করে তাঁদের কাছ থেকে যাঁরা চিকিৎসা নিয়েছেন, ওই সব ব্যক্তির এখন সংক্রমণ ঝুঁকি বেশি।

আক্রান্ত চিকিৎসকেরা আরও ধারণা করছেন, পুরো হাসপাতাল ক্যাম্পাসে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালটিতে বর্তমানে যাঁরা কর্মরত রয়েছেন, পরীক্ষা করা হলে বেশির ভাগের ফলাফল আসবে পজিটিভ। এই কারণে রোগীদের ঝুঁকিটাও কম নয়। এই ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ, বাকি স্বাস্থ্যকর্মী এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে এই মুহূর্তে হাসপাতালটি পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তা না হলে লাভের বিপরীতে ক্ষতিটা হবে বেশি।

ভৈরবে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ১০ এপ্রিল। ব্যক্তিটি ছিলেন থানার একজন উপপরিদর্শক। ওই দিনই ভৈরব অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়। থানার সকল সদস্যকে (৬৯ জন) কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় পাঁচজন চিকিৎসককেও। অবরুদ্ধ করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড। এরপর ভৈরবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পুরো স্থবির হয়ে পড়ে। স্বাভাবিক অবস্থায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে খুব বেশি সময় আন্তবিভাগে শয্যা খালি থাকে না। বহির্বিভাগে গড়ে রোগী ৬০০। ওই দিনের পর থেকে উভয় বিভাগে রোগী কমতে থাকে।

একের পর এক সহকর্মীরা সংক্রমিত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আজ মুঠোফোনে তিনি বলেন, তথ্য বলে হাসপাতাল ক্যাম্পাসটি এখন করোনা সংক্রমিত হয়ে আছে। এই অবস্থায় শুধু স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নয়, যাঁরা সেবা নিতে আসবেন, তাঁরা সংক্রমিত হতে পারেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারলেও নানা কারণে সিভিল সার্জন কার্যালয় এখনই হাসপাতালটি লকডাউন করতে রাজি নয়। আলাদা একটি কক্ষে সীমিত পরিসরে হলেও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখার পক্ষে সিভিল সার্জন।

মুঠোফোনে কথা হয় সিভিল সার্জন মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে আছেন। তবে আগে এই বিষয়ে সিভিল সার্জনের ভাষ্য ছিল, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করে দিলে রোগীদের যাওয়ার আর জায়গা থাকবে না।