আখাউড়ায় আরও এক চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আরও এক চালককে হত্যার পর ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার মোগড়া এলাকার হাসিমপুরে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল উপজেলার খালাজুড়া-আনোয়ারপুর সড়কের পাশের জমি থেকে ইরন মিয়া নামের এক ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলায় দুই চালককে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় অন্য ইজিবাইক চালকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার খুন হওয়া ইজিবাইকচালকের নাম মো. জুয়েল কাজী (১৭)। সে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের চান্দপুর কালীবাড়ি গ্রামের মো. আজিজুল কাজীর ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আজ শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হানজালা (২১) নামের এক ব্যক্তি ধরখার যাওয়ার জন্য জুয়েল কাজীর ইজিবাইকটি ভাড়া করেন। মোগড়া এলাকার হাসিমপুর নামের স্থানে আসার পর চালক জুয়েল কাজীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়ে ইজিবাইকটি ছিনতাই করেন। এরপর হানজালা ইজিবাইকটি মো. সাফায়েত (২৮) নামের এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে রাখেন। জুয়েল কাজীর একজন নিকটাত্মীয় এ সময় ইজিবাইকটি দেখতে পান। তিনি জুয়েল কাজীর মুঠোফোনে ফোন দিয়ে তাঁকে না পেলে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে জুয়েল কাজীর পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়।
পুলিশ শুক্রবার রাতেই সাফায়েতের কাছ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে হানজালাকে গ্রেপ্তার করে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হাসিমপুর এলাকা থেকে শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জুয়েল কাজীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আজ শনিবার সকালে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হানাজালা ও সাফায়েতকে আজ শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ এপ্রিল) ইফতারের পর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে ইরন মিয়া। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতেই তাঁকে খুন করে লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরদিন ২৬ এপ্রিল সকালে খালাজুড়া-আনোয়ারপুর সড়কের পাশে জমিতে লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লাশটি ইরনের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ইব্রাহিম মিয়া নামের আখাউড়ার এক ইজিবাইকচালক বলেন, একের পর এক চালকে খুন করে গাড়ি ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতের বেলায় অনেকে ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যান। এ নিয়ে পরিবারের লোকজনের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ইজিবাইকটি ছিনতাই করে বিক্রি করার সময় সাফায়েতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে হানজালাকে আটক করা হয়েছে। হানজালার তথ্যমতে পুকুর থেকে ইজিবাইকচালক জুয়েল কাজীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হযেছে।