আদালতে ভিডিও ধারণের অভিযোগে সাংবাদিক কারাগারে
আদালত চলাকালে ভিডিও ধারণ ও প্রচারের অভিযোগে নাটোরের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে আজ শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়। জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার সাংবাদিকের নাম নাসিম উদ্দীন (৪৫)। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের নাটোর প্রতিনিধি এবং শহরের বড়গাছা এলাকার বাসিন্দা। আসামি অপর সাংবাদিকের নাম নাজমুল হাসান (৪২)। তিনি স্থানীয় চলনবিল টিভির (আইপি টিভি) প্রতিবেদক ও গুরুদাসপুর উপজেলার বাসিন্দা।
নাটোর সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী আল-আমিন ভূঁইয়া (৩৪) বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দেন। শুক্রবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। মামলায় নাসিম উদ্দীন ও নাজমুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম আহম্মেদ বলেন, বাদীর অভিযোগ আসামিরা আদালত চলাকালে বেআইনিভাবে ভিডিও ধারণ করে আদালতের গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছেন। একই সঙ্গে আসামি নাসিম উদ্দীন ওই ভিডিও তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এবং অপর আসামি নাজমুল হাসান ‘চলনবিল টিভি’ নামক ফেসবুক পেজে প্রচার করেছেন। আসামিরা ভিডিওর ক্যাপশনে আদালত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যও করেছেন, যা আদালত অবমাননার শামিল।
অভিযুক্ত নাসিম উদ্দীন নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সদস্য। ক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, আলোচিত ওই ভিডিও নাসিম নিজে ধারণ করেননি বা ওই দিন তিনি আদালত চত্বরেও যাননি। তাঁর এক প্রতিবেশী তাঁকে ওই ভিডিওটি সরবরাহ করেছিলেন। সংক্ষিপ্ত ভিডিওটি এজলাসের বাইরে থেকে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে আদালত চলাকালে এক ব্যক্তিকে আইনজীবীদের টেবিলে মাথা রাখতে দেখা যায়।
আলোচিত ভিডিও গত বৃহস্পতিবার ধারণ করা। নাসিমের বরাত দিয়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, আদালতের আইন–কানুন না বুঝে অজ্ঞতাবশত নাসিম ভিডিওটি পোস্ট করে ভুল করেছেন। তিনি (নাসিম) এর জন্য অনুতপ্ত ও ক্ষমা চেয়েছেন।