আবার দখলের চেষ্টা, তৎপর পুলিশ

বিআইডব্লিউটিএর অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে মিরপুর বেড়ি বঁাধ সংলগ্ন বড়বাজারের অবৈধ দোকানপাট। এখনো সরানো হয়নি ধ্বংসাবশেষ। এরই মধ্যে সেখানে অবস্থান নিয়ে ব্যবসা–বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছেন অনেকে। গতকাল দুপুরের চিত্র।  ছবি: প্রথম আলো
বিআইডব্লিউটিএর অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে মিরপুর বেড়ি বঁাধ সংলগ্ন বড়বাজারের অবৈধ দোকানপাট। এখনো সরানো হয়নি ধ্বংসাবশেষ। এরই মধ্যে সেখানে অবস্থান নিয়ে ব্যবসা–বাণিজ্য শুরু করে দিয়েছেন অনেকে। গতকাল দুপুরের চিত্র। ছবি: প্রথম আলো

তুরাগতীরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা মিরপুর বড়বাজারটি গত মঙ্গলবার গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এর দুই দিন পরই সেখানে ফের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। অভিযানের পর আবার অবৈধভাবে বাজার বসায়—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে তিন দিন পর গতকাল রোববার সব দোকানিকে সরিয়ে দিয়েছে দারুস সালাম থানা-পুলিশ। গতকাল সেখানে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
নদীতীরে হাঁটাপথ নির্মাণ ও সবুজ বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকার চারপাশের নদ–নদীর তীর দখলমুক্ত করতে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ। অভিযানে ভেঙে ফেলা অবৈধ স্থাপনার মধ্যে ভবনই ছিল বেশি। এর মধ্যে একমাত্র কাঁচা বাজারটি ছিল মিরপুর বেড়িবাঁধ–সংলগ্ন বড় বাজার। এই বাজার ভেঙে ফেলার পর সেখানে কয়েকজন ব্যবসায়ী ফের দোকানপাট চালু করার চেষ্টা করেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মিরপুর বড় বাজারে ‘কাঁচা বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি’ পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করত। মাতবর হাজি নামে আওয়ামী লীগের এক নেতা এই সমিতির সভাপতি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. পলাশ বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারে দোকান নেওয়ার আগে তারা কাঁচা বাজার সমবায় সমিতিকে আগাম টাকা দিয়েছেন। প্রতি মাসে ভাড়াও দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই উচ্ছেদ অভিযানে সব দোকানপাট ভেঙে ফেলার পর কমিটির কেউ এখন আর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এ অবস্থায় তাঁরা নিজেরাই ফের দোকানপাট বসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে গতকালই বাজার থেকে পণ্য নিয়ে সরে যেতে হয়েছে।
জানতে চাইলে মো. পলাশ প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ মাস আগে বাজারে ১২ সদস্যের কমিটি করা হয়েছিল। এতে ১২৬ জন সদস্য ছিলেন। সব সদস্যের দোকান ছিল না। অভিযানের পর নিজের দোকানও ছেড়ে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সদস্যদের মধ্যে যাঁরা নিজেরা দোকান না করে ভাড়া দিয়েছেন, তাঁরা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে পেতেন। সরকার নদীর তীরে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করলে ওই বাজার আর বসানো হবে না বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল নয়টার দিকে অন্তত ৪০ জন ব্যবসায়ী বিশাল আকারের ছাতা পুঁতে তার তলায় মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও মুদিসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন। ক্রেতার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী সেখান থেকে মালামাল অন্যত্র নিয়ে যান। জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, পরিস্থিতি যা, এতে এখানে ব্যবসা করার আর সুযোগ নেই। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে নির্দেশ দেন। এর আধা ঘণ্টা পর অনেকে সেখান থেকে চলে না যাওয়ায় তাঁদের বাজার ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
এদিকে সমিতির সাধারণ সম্পাদক পলাশের একটি দোকানেও গতকাল এক ব্যক্তি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাড়া দিতেন। এখন মনে হচ্ছে, এই দোকান আর চালাতে পারবেন না। যে হাঁটাপথ ও সবুজ বলয় তৈরির জন্য এই বাজারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, দ্রুত তা বাস্তবায়িত না হলে ফের জায়গা দখল হয়ে বাজার বসে যাবে।
জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার উপপরিদর্শক মো.সবুজ বলেন, কোনোভাবেই ব্যবসায়ীরা আর বাজারে বসতে পারবেন না। তাঁরা অবৈধভাবে এখানে বাজার গড়ে তুলেছেন। কেউ যাতে বাজারে ফের বসতে না পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বাজারের মধ্যে যতগুলো স্থায়ী স্থাপনা ছিল, সব ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর অনেকে উন্মুক্ত স্থানে বসেছিলেন। তবে সেখানে বাজার থাকার প্রশ্নই ওঠে না।