রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আলোচিত শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি করেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সুলতান-উল-ইসলামকে সভাপতি ও রেজিস্ট্রার আবদুস সালামকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন বিভিন্ন বিভাগের আরও জ্যেষ্ঠ আট অধ্যাপক।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাঙ্গুয়েজের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গোলাম কবীর, ইংরেজি বিভাগের মো. শহীদুল্লাহ, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. সায়েদুজ্জামান, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, আইন বিভাগের আবু নাসের মোহাম্মদ ওয়াহিদ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মো. মশিহুর রহমান।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নকল্পে গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সভাপতি সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তনের জন্য সরকার থেকে এবং তাঁদের দিক থেকেও দাবি ছিল। এটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। সেই লক্ষ্যে একটি কমিটি হয়েছে। এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। শিগগিরই সভা ডাকা হবে। কমিটিকে নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার মানদণ্ড কেমন হবে, সে বিষয়ে সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি অনুসরণীয় নীতিমালা আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়েও আগে নীতিমালা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো হয় এবং যুগোপযোগী হয়—এমন একটি শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
লতান-উল-ইসলাম আরও বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক নিয়োগ হবে না।
তবে এই কমিটিতে থাকা একজন সদস্য জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে এখনো চিঠি পাননি। তাই তিনি জানেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অধিকারীরা আবেদন করতে পারতেন। ২০১৭ সালের ৭ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুস সোবহান দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৫ শিথিল করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা-২০১৭ প্রণয়ন করেন। এতে সব অনুষদের ক্ষেত্রে প্রথম থেকে সপ্তম স্থান অধিকারীদের আবেদনের বাধ্যবাধকতা বাদ দেন।
২০১৭ সালের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় অন্যান্য অনুষদের (বিজ্ঞান অনুষদ, জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদ, কৃষি অনুষদ এবং প্রকৌশল অনুষদ) আবেদনের ন্যূনতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ রেখে বাকি অনুষদের ৩ দশমিক ৫-এর নিচে নামিয়ে আনা হয়। এমনকি কিছু অনুষদে আবেদনের যোগ্যতা সিজিপিএ ৩ করা হয়।
এই নীতিমালা প্রণয়নের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক সমাজ’ স্লোগানে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলে। তবু এই নীতিমালাতেই গত মে মাসে বিদায় নেওয়া উপাচার্য আবদুস সোবহান নিয়োগ দিয়ে যান। শেষ দিনে তিনি সবচেয়ে বেশি ১৩৮ জনের নিয়োগ দেন, যাঁদের ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্বপদে যোগদানের জন্য সবশেষ নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে আন্দোলন করে আসছিল।
পরে গত ২৯ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। এর দেড় মাসের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ণে কমিটি হলো।